বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা: মার্কেটগুলোতে নারীদের উপচে পড়া ভিড়

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
চাঁদপুরে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা: মার্কেটগুলোতে নারীদের উপচে পড়া ভিড়
রোজার মাঝামাঝি সময়ে চাঁদপুরের বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চাঁদপুর পৌর শহর, হাজীগঞ্জ বাজার, মতলব বাজার, কচুয়ার রহিমা নগর সহ জেলার সবকটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজারের মার্কেটগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ক্রেতা সমাগম। ছোট-বড়, নানা বয়সের মানুষ ছিলেন ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত।
বাজারের ভিড় নিরীক্ষণ করে দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে শাড়ি, থ্রি-পিস, গাউন, লেহেঙ্গা ও বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় সবচেয়ে বেশি। প্রসাধনী ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতেও ক্রেতা সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত যেন মার্কেটগুলো। প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে পছন্দের পোশাকের খোঁজে ক্রেতারা এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ছুটছেন। এখানে দুই শ্রেণির ক্রেতা লক্ষ্য করা গেছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো স্থানীয় বাজারেই কেনাকাটা করতে দেখা যায়। এদিকে শহরে প্রবেশ করলেই বোঝা যায় ঈদ মার্কেট। বর্ণিত সাজে যেন পুরো শহরকেই সাজানো হয়েছে। দেশি বিদেশি পোষাকের মিশ্রণে কমপ্লেক্সগুলো রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ঈদ যতই কাছে আসবে দোকানগুলো কেনাবেচায় সরগরম হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা সকলের। আর উচ্চ বিত্তরা শহরের এসব নামি-দামি মার্কেটে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন।
প্রতিটি মার্কেট সকাল থেকে কেনাবেচা শুরু হয় চলে রাত পর্যন্ত। তবে এর মধ্যে বিকেল থেকে ইফতারের এই মুহুর্তে মার্কেটগুলো কিছুটা ফাঁকা থাকে। কাপড়ের দোকানে শোভা পাচ্ছে জামদানি শাড়ী, থ্রি পিস, স্কার্ট, কাতান, সিল্ক জর্জেট, ছেলেদের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টিশার্ট, প্যান্ট এবং ছোটদের জন্য বাহারি ডিজাইনের পোশাক। ঈদে ক্রেতারা ভিনদেশি সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি এবং দেশীয় সুতি পোশাকের দিকে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। গরমের কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক পোশাক বেছে নিচ্ছেন অনেকে। সেইসাথে প্রসাধনীর দোকানগুলোতে নারী ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি জুতার দোকানেও লেগে থাকে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়।
ক্রেতারা জানান, অনেক ডিজাইন ও ভালো মানসম্মত হলেও এখানে দাম কিছুটা বেশি। এছাড়া ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, দাম ততই বাড়তে পারে বলেও ধারণা করছেন তারা। আর বিক্রেতারা বলেন, ঈদের কেনাকাটায় নারীদের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে।
পরিবারের সবার পোশাক কেনার দায়িত্ব অনেক সময়ই নারীদের থাকে। নতুন ডিজাইন ও ফ্যাশনের পোশাক দেখা এবং পছন্দমতো কেনার কারণে নারীরা দোকানে দীর্ঘ সময় থেকেই কেনাকাটা করেন।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।