বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের ইফতার

সরকারি সেবা পেতে আমাদের একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে : শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৪ এম
সরকারি সেবা পেতে আমাদের একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে : শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি

চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের ইফতার মাহফিলে ইফতার পূর্ব দোয়ায় মোনাজাতরত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ।

চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে প্রয়াত সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরী ও শাহ মোহাম্মদ
মাসুদ আলমের স্মরণ সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২য় তলায় এলিট চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এই ইফতারের আয়োজন করা হয়।

চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাদের পলাশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়েরের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রবিউল হাসান।

Model Hospital

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন বিভ্রান্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে সত্য জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যে চাঁদপুরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শন করেছি। সেখানে মানুষের কাছে যেমন অভিযোগ পেয়েছিলাম পরিদর্শনে গিয়ে তার পিছনেও ভিন্ন চিত্র দেখতে পেয়েছি। তাই সকলের কাছে আমার অনুরোধ সরকারি সেবা পেতে আমাদের একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চাঁদপুরের সিভিল সার্জন নূরে আলম দ্বীন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ কে এম মাহবুবুর রহমান, চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো: এরশাদ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সলিমুল্লাহ সেলিম, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মোশারফ হোসেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান, দৈনিক নয়া প্রভাত পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জামাল সাকিব, জেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাজী আশরাফুজ্জামান রাসেল।

চাঁদপুর জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি আল ইমরান শোভন, রিয়াদ ফেরদৌস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীনসহ টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সদস্যবৃন্দ।

ইফতার মাহফিলে চাঁদপুরে কর্মরত বিভিন্ন টেলিভিশন সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাত পরিচালনা করেন সাংবাদিক আহমদ উল্লাহ।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।