বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপি করার কারণে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
বিএনপি করার কারণে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিসি বিচার এবং পরবর্তীতে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় আসামি অন্তর্ভুক্তিকে ঘিরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মামলায় আসামি করা ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযুক্তদের স্বজনরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাঁস চুরির অপবাদে সালিসি বৈঠকের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করে ‘নাকে খত’ দেওয়া এবং অর্থদণ্ড করার জেরে মো. মাসুম মিজি (২০) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন-এ অভিযোগে তার পিতা আলাউদ্দিন মিজি বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সোমবার (৯ মার্চ) রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা সালিস বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন বক্তারা।
তারা আরও বলেন, মামলার প্রধান আসামি সোহেল মোল্লা কয়েক মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আসামিরাও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহিন সরকার বলেন, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোহেল মোল্লাসহ কয়েকজন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
অন্যদিকে সালিস পরিচালনাকারী ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
মামলার সাক্ষী আল আমিন অভিযোগ করেন, তাকে সাক্ষী করা হলেও এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, সালিস চলাকালে তিনি উপস্থিত থাকলেও মামলার কয়েকজন আসামি সেখানে ছিলেন না। তাদের কীভাবে আসামি করা হলো, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুন, জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রধান আসামি সোহেল মোল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম এবং পৌর যুবদল নেতা রাজু পাটওয়ারী।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ হাঁস চুরির অভিযোগে চরমথুরা গ্রামের মাসুম মিজিকে পরদিন ৮ মার্চ সালিসের মুখোমুখি করা হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ওই সালিসে অংশ নেন। সালিসে মাসুমকে ‘নাকে খত’ দেওয়া এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ওই দিন বিকেলে তিনি নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হেলাল উদ্দিন।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।