চাঁদপুরে ৪৫ বাজারে খাজনা বন্ধ, বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি নিষিদ্ধ
চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি–হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ও দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বন্ধে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর সরাসরি উদ্যোগে আগামী ১লা বৈশাখ থেকে শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলার মোট ৪৫টি বাজারে কোনো ধরনের খাজনা আদায় করা হবে না। পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্ট্যান্ডে ইজারা ও চাঁদাবাজির প্রচলিত প্রথাও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসন ও সুধীজনদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সভায় সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের প্রথম বক্তব্যেই তিনি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, একজন প্রান্তিক কৃষক কঠোর পরিশ্রমে ফসল উৎপাদন করে বাজারে আনলেও ন্যায্য মূল্য পায় না। ফসল বিক্রির বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ও ইজারাদারদের হাতে। ফলে কৃষককে নাম মাত্র মূল্যে ফসল বিক্রি করে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। এই অবস্থা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতেই তিনি খাজনামুক্ত বাজার চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ১৩ এপ্রিল হাজীগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি আবারও বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি তাদের সেবা করার জন্য। বাজার, বাসস্ট্যান্ড কিংবা সিএনজি স্ট্যান্ড—কোথাও সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের হয়রানি বা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। কেউ যদি খাজনা বা ইজারার নামে মানুষকে হয়রানি করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাধারণত বাজার ইজারা না দিলে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়। তবে এই ক্ষেত্রে ভিন্নধর্মী সমাধান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বাজার ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক নিজ উদ্যোগে সরকারি নিয়ম মেনে নির্ধারিত সমপরিমাণ রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে না, আবার কৃষক ও ব্যবসায়ীদেরও খাজনা দিতে হচ্ছে না।
আগামী ১লা বৈশাখ শাহরাস্তিতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘খাজনামুক্ত বাজার’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন বলেন, জনকল্যাণে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সাধারণত ইজারা বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কিন্তু এখানে নিয়ম মেনে নির্ধারিত রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ফলে সরকার যেমন রাজস্ব পাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। এটি একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতারাও।
শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, “আমরা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। খাজনামুক্ত বাজার সেই অঙ্গীকারেরই অংশ।” সংগঠনের সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপম বলেন, “খাজনার নামে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর যে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা ছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তার অবসান ঘটবে।
এদিকে বাজারের খাজনা বন্ধের ঘোষণায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ও উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এখন থেকে কোনো অতিরিক্ত অর্থের চাপ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে ফসল ও পণ্য কেনাবেচা করা যাবে। সচেতন মহল মনে করছেন, জনবান্ধব এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য সংসদীয় আসনের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।





