শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলী কামিল মাদরাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১, ২:৩০ পিএম
শাহতলী কামিল মাদরাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার শতবছরের ঐতিহ্যবাহী শাহতলী কামিল মাদরাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৯ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় মাদরাসা মিলণায়তনে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এর সভাপতিত্বে ও সহকারি অধ্যাপক মো: কামাল হোসেন এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মাদরাসা গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথি মাদরাসা গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, আজকের দিনটি তোমাদের জন্য অনেক আনন্দের। এ পরীক্ষার মাধ্যমে তোমরা উপরের শ্রেনিতে পড়াশুনা করার অনুমতি পাবে। তোমরা ভালোভাবে প্রিপারেশন নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা অর্জন করে দেশের গুরুত্বপূর্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ মাদরাসার ফলাফল সবসময় ভালো হয়। তোমাদের এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার অটোপাশের সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্ব-শরীরে পরীক্ষার নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এর মাধ্যমে তোমাদের মেধা যাছাই হবে, মেধার বিকাশ ঘটবে। পরীক্ষা হলে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখায় মনোযোগী হয়। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ অনেক দক্ষ। ভালো ফলাফল করলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জন হয়।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি’র সহযোগিতায় এ মাদরাসায় একটি ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মান করা হয়েছে। এ ভবনটি মাদরাসার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। এজন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আরো ধন্যবাদ জানাই প্রয়াত অধ্যক্ষ মাওলানা ফয়েজ আহমেদের প্রতি। আশারাখি তোমরা জানুযারী মাস থেকেই নতুন ভবনে ক্লাস করতে পারবে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, মাদরাসা গভর্নিং বডির দাতা সদস্য আলহাজ্ব জাকির হোসেন তপাদার,শাহতলী কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা ইয়াছিন মিয়া, মাদরাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা আখতার হোসেন, আরবী প্রভাষক মাওলানা এমদাদ উল্ল্যাহ, ইংরেজী প্রভাষক মোহাম্মদুল্লা, আরবী প্রভাষক মাওলানা এ.এন.এম হেলাল উদ্দিন, বাংলা প্রভাষক মো: বেলায়েত হোসেন মিজি, সিনিয়র মৌলভী হাফেজ জহিরুল হক, সিনিয়র মৌলভী মাওলানা মিজানুর রহমান, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম গাজী, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কামিল ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান ঢালী, কামিল ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মো: সাকিব হোসাইন, ফাযিল ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মো: মেহেদী হাসান, আলিম পরীক্ষার্থী রাশেদ হোসেন, দাখিল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মো: শাহপরান, মো: নাঈম খান।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, শাহতলী কামিল মাদারাসার ২য় মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মান্নান, আরবী প্রভাষক মাওলানা মহিউদ্দিন, সহকারি শিক্ষক মাওলানা বাহাউদ্দিন, সহকারি শিক্ষক হাবিবুর রহমান, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আনিসুর রহমান, ইবতেদায়ী প্রধান শরীফ মো: মোস্তফা খান, অভিভাবক মো: আমির হোসেন খান, ইবতেদায়ী শিক্ষক আহসান হাবিব, হিসাব রক্ষক মো: শরিফুর রহমান খানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন, শিক্ষার্থী মো: নেছার উদ্দিন, ইসলামী সংগীত পরিচালনা করেন, মো: নিরব হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য ও দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে মাদরাসার শিক্ষক মিলনায়তনে সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিকের সহায়তায় মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন বক্স বিতরণ করেন, মাদরাসা গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী। এসময় মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’