বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় প্রয়াত বিএনপি নেতাকর্মীদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম
কচুয়ায় প্রয়াত বিএনপি নেতাকর্মীদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

কচুয়ায় প্রয়াত বিএনপির নেতাকর্মীদের স্মরণে আলোচনা সভা,দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র কার্যনির্বাহী সদস্য নাজমুন নাহার বেবী।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কচুয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত প্রয়াত সকল নেতাকর্মীদের স্মরণে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নাজমুন নাহার বেবী।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ খায়রুল আবেদীন স্বপনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুভাষ এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন সেলিম পাটোয়ারীর যৌথ সঞ্চালনালয় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক শাহ জালাল প্রধান জালাল, পৌর সাবেক মেয়র হুমায়ুন কবির প্রধান, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ বিল্লাল হোসেন মজুমদার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ মাস্টার, উপজেলা শিক্ষা সমন্বয়ক আব্দুল ওয়াদুদ মজুমদার, কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ নূর মোহাম্মদ কচি, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল খালেক, উত্তর কচুয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউনুছ মিয়াজী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সারফিন হোসাইন,মাহবুব আলম মৃধা, কচুয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ তরিকুল ইসলাম তরিক,উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুন নবী সুমন, পৌর যুবদলের সভাপতি সফিকুল ইসলাম, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা কবির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন আবেগ প্রমুখ। এসময় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে কচুয়া উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যবতী পর্যন্ত বিএনপির যে সকল প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরণে তাদের আত্মা মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মোঃ কবির হোসেন।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।