শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভেঙে ‘অলীপুর’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:৫৯ এম
হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভেঙে ‘অলীপুর’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ‘১৩ নম্বর অলীপুর ইউনিয়ন পরিষদ’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) চিঠি দিয়েছেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ নম্বর হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন আয়তন ও জনসংখ্যার বিচারে চাঁদপুর জেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। ৮ দশমিক ২৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নটিতে ১৫টি গ্রাম রয়েছে এবং ভোটার সংখ্যা ৩৪ হাজার ৫২৫ জন।

সংসদ সদস্য তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেন, ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে রেললাইন ও কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়ক চলে গেছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মাঝখানে হাজীগঞ্জ পৌরসভার একটি অংশ থাকায় ভৌগোলিকভাবে দুটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে উত্তরাঞ্চলে যেতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমাতে এবং প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ‘৫ নম্বর হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন’ ও ‘১৩ নম্বর অলীপুর ইউনিয়ন’ নামে দুটি পৃথক ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

Model Hospital

প্রস্তাবিত অলীপুর ইউনিয়নে অলীপুর (উত্তর), অলীপুর (দক্ষিণ), বেতিয়াপাড়া, উচঙ্গা, সাতবাড়িয়া ও সিদলা—এই ছয়টি গ্রাম অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১৩ হাজার ৮৫ জন এবং ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ১৮৬।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ইউনিয়ন বিভক্তির প্রস্তাবটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। তাই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জনসেবার মানোন্নয়নের স্বার্থে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।