হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভেঙে ‘অলীপুর’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ‘১৩ নম্বর অলীপুর ইউনিয়ন পরিষদ’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) চিঠি দিয়েছেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ নম্বর হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন আয়তন ও জনসংখ্যার বিচারে চাঁদপুর জেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। ৮ দশমিক ২৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নটিতে ১৫টি গ্রাম রয়েছে এবং ভোটার সংখ্যা ৩৪ হাজার ৫২৫ জন।

সংসদ সদস্য তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেন, ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে রেললাইন ও কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়ক চলে গেছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মাঝখানে হাজীগঞ্জ পৌরসভার একটি অংশ থাকায় ভৌগোলিকভাবে দুটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে উত্তরাঞ্চলে যেতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমাতে এবং প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ‘৫ নম্বর হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন’ ও ‘১৩ নম্বর অলীপুর ইউনিয়ন’ নামে দুটি পৃথক ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত অলীপুর ইউনিয়নে অলীপুর (উত্তর), অলীপুর (দক্ষিণ), বেতিয়াপাড়া, উচঙ্গা, সাতবাড়িয়া ও সিদলা—এই ছয়টি গ্রাম অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১৩ হাজার ৮৫ জন এবং ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ১৮৬।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ইউনিয়ন বিভক্তির প্রস্তাবটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। তাই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জনসেবার মানোন্নয়নের স্বার্থে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।





