রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

সামাজিক অসন্তোষ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে : ইউএনও জামিউল হিকমা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১০:১১ পিএম
সামাজিক অসন্তোষ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে : ইউএনও জামিউল হিকমা

চাঁদপুর সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন. জামিউল হিকমা।

চাঁদপুর সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন. জামিউল হিকমার সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। মাদক, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রশাসন অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তবে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও সামাজিক অসন্তোষ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সমন্বিত, তথ্যভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা ও বাজারকেন্দ্রিক একটি নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গ্রাম পুলিশকে সম্পৃক্ত করে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও সামাজিক অস্থিরতা সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে ইউনিয়ন পরিষদে সংগ্রহ করা হবে। পরে ইউনিয়নভিত্তিক প্রতিবেদন উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে এবং উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তা পর্যালোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

Model Hospital

তিনি বলেন, এ উদ্যোগে জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বাজার কমিটি, গ্রাম পুলিশ, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। তথ্যনির্ভর পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ এবং একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি-ছিনতাই এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজমগীর হোসাইন, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হযরত আলী ঢালী, শাহজালাল মিশনের আখতার হোসেন সাগর, অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার সুপ্তা ও অ্যাডভোকেট মুনিরা চৌধুরী। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।