শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

৩৬ বছর শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন কচুয়ায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
৩৬ বছর শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন কচুয়ায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব

কচুয়ায় নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেবকে রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান।

কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ৭৪নং নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মোতালেব ৩৬বছর শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদায় সংবর্ধনা শেষে ফুলে সজ্জিত গাড়িতে করে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
এদিন প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তার কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। আবেগঘন এই আয়োজনে উপস্থিত অনেকের চোখেই জল নেমে আসে।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নাসরিন আক্তারের  সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহজাহান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আকতার হোসেন, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম,ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান,উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোতাহের হোসেন, নিবার্হী সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান, নাছির উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম আলম, নিবার্হী সম্পাদক মিজানুর রহমান কামাল,
সমাজ সেবক মহিউদ্দিন শামীম,অনুভব নোয়াগাঁও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি এবং প্রধান সমন্বয়ক শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাছির প্রধান, বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হোসেন,নোয়াগাঁও সমাজ কল্যাণ পাঠাগার মোঃ মাহবুব হায়দার প্রমুখ।
বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, একজন জ্ঞানের আলো দানকারীর বিদায় জানাতে হচ্ছে। তিনি এ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ শিক্ষকতার প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত শিক্ষকতা করেছেন, ওনি এ বিদ্যালয়ে আসার পর পাশের হার শতভাগে উন্নিত হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। আজকে এ মহান শিক্ষকের বিদায় জানাতে গিয়ে কলিজা বির্দীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা এ মহান শিক্ষকের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব বিদায় বেলায় আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, আমি জীবনের সবচেয়ে বড় সময়টা এই বিদ্যালয়ের জন্য দিয়েছি। আজকের এই সম্মান আমাকে আবেগে ভাসিয়ে দিয়েছে। শিক্ষকতা আমার কাছে শুধু পেশা নয়, এটি দায়িত্ব ও ভালোবাসার জায়গা।
তিনি আরও বলেন, এই বিদ্যালয়টি আমার কাছে সন্তানের মতো। অবসরে গেলেও এর অগ্রগতির জন্য আমার দোয়া থাকবে সবসময়।
উল্লেখ্য যে,প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব ১৯৯০ সালে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি ২০০৫  নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান আজকে শেষ কর্মদিন পর্যন্ত প্রায় ২০বছর এই প্রতিষ্ঠানে সুনামের সহিত  শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেয়ে অবসরে যান।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে একটি সুসজ্জিত প্রাইভেটকারে করে বিদায়ী এই শিক্ষককে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। যাত্রাপথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।