মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

৩৬ বছর শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন কচুয়ায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
৩৬ বছর শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন কচুয়ায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব

কচুয়ায় নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেবকে রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান।

কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ৭৪নং নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মোতালেব ৩৬বছর শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদায় সংবর্ধনা শেষে ফুলে সজ্জিত গাড়িতে করে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
এদিন প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তার কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। আবেগঘন এই আয়োজনে উপস্থিত অনেকের চোখেই জল নেমে আসে।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নাসরিন আক্তারের  সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহজাহান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আকতার হোসেন, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম,ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান,উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোতাহের হোসেন, নিবার্হী সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান, নাছির উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম আলম, নিবার্হী সম্পাদক মিজানুর রহমান কামাল,
সমাজ সেবক মহিউদ্দিন শামীম,অনুভব নোয়াগাঁও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি এবং প্রধান সমন্বয়ক শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাছির প্রধান, বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হোসেন,নোয়াগাঁও সমাজ কল্যাণ পাঠাগার মোঃ মাহবুব হায়দার প্রমুখ।
বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, একজন জ্ঞানের আলো দানকারীর বিদায় জানাতে হচ্ছে। তিনি এ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ শিক্ষকতার প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত শিক্ষকতা করেছেন, ওনি এ বিদ্যালয়ে আসার পর পাশের হার শতভাগে উন্নিত হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। আজকে এ মহান শিক্ষকের বিদায় জানাতে গিয়ে কলিজা বির্দীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা এ মহান শিক্ষকের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব বিদায় বেলায় আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, আমি জীবনের সবচেয়ে বড় সময়টা এই বিদ্যালয়ের জন্য দিয়েছি। আজকের এই সম্মান আমাকে আবেগে ভাসিয়ে দিয়েছে। শিক্ষকতা আমার কাছে শুধু পেশা নয়, এটি দায়িত্ব ও ভালোবাসার জায়গা।
তিনি আরও বলেন, এই বিদ্যালয়টি আমার কাছে সন্তানের মতো। অবসরে গেলেও এর অগ্রগতির জন্য আমার দোয়া থাকবে সবসময়।
উল্লেখ্য যে,প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব ১৯৯০ সালে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি ২০০৫  নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান আজকে শেষ কর্মদিন পর্যন্ত প্রায় ২০বছর এই প্রতিষ্ঠানে সুনামের সহিত  শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেয়ে অবসরে যান।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে একটি সুসজ্জিত প্রাইভেটকারে করে বিদায়ী এই শিক্ষককে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। যাত্রাপথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।