শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

এবার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৪ এম
এবার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থা

চলমান ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ঠিক এই সময়েই মাঠের বাইরে এক বড় বিতর্কের ঘূর্ণিপাকে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী এই সংস্থাটি। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও দেশটির ফেডারেল কৌঁসুলিরা।

একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এএফএর ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ঘিরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কীভাবে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার আমেরিকার আর্থিক ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে লেনদেন হয়েছে এবং সেসব লেনদেনে দেশটির প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না।

কার্লোস তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এএফএ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টাইন ফুটবলের সবচেয়ে সফল অধ্যায় পার করছে, যার মধ্যে ২০২২ ও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ মিশন অন্যতম। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘লা নাসিওন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেশনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন।

গত এক বছরে আর্জেন্টাইন ফুটবলে ঘটে যাওয়া একাধিক আইনি ও আর্থিক বিতর্কের ধারাবাহিকতায় এই তদন্তের বিষয়টি সামনে এলো। এর আগে গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ‘সুর ফিনানজাস’ নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট পৃথক এক মানি লন্ডারিং ও কর ফাঁকির অভিযোগে এএফএ সদর দপ্তর ও দেশটির বেশ কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালিয়েছিল আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ।

Model Hospital

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন তদন্তকারীরা প্রায় ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া বিভিন্ন লেনদেন খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পনসরশিপ ও মিডিয়া স্বত্ব থেকে অর্জিত রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সাক্ষী তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত এএফএর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগের কোনো প্রভাব চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণের ওপর পড়েনি। মাঠের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দলটি এখনো টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই এগিয়ে চলেছে।

তবে ঘটনাটি সামনে আসার সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ কোয়ার্টার-ফাইনালের মহারণের জন্য আর্জেন্টিনা যখন মাঠে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই মাঠের বাইরের এসব খবর ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। বছরের পর বছর ধরে ট্রফি জয় ও বৈশ্বিক সাফল্য উদযাপন করে আসা এই ফেডারেশনের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের তদন্তের বিষয়টি সামনে আসায় সংস্থাটির সুশাসন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এই প্রশ্নগুলো আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।