শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

এবার শাহরাস্তির মেডিল্যাব হাসপাতালে সফল হেমি থাইরয়েডেক্টমি অস্ত্রোপচার

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
এবার শাহরাস্তির মেডিল্যাব হাসপাতালে সফল হেমি থাইরয়েডেক্টমি অস্ত্রোপচার

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুকে অবস্থিত মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে সফলভাবে একটি হেমি থাইরয়েডেক্টমি (Hemi Thyroidectomy) অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি একটি সূক্ষ্ম ও তুলনামূলকভাবে জটিল অস্ত্রোপচার, যা সাধারণত বিশেষায়িত হাসপাতালে বেশি হয়ে থাকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এক রোগী। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে দক্ষ চিকিৎসক ও অপারেশন থিয়েটার (ওটি) টিমের সমন্বয়ে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে রোগী সুস্থতার পথে রয়েছেন।

অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করেন ইএনটি সার্জন ডা. শীহাব শাহীন। তাঁকে সহযোগিতা করেন সার্জন ডা. মো. আরিফ উল হাসান, ডা. দিপংকর চন্দ্র ভৌমিক এবং হাসপাতালের দক্ষ ওটি টিম। অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. তৌহিদুর রহমান সজীব।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মো. আরিফ উল হাসান বলেন, “উন্নত চিকিৎসাসেবা শুধু বড় শহরেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এ ধারণা বদলাতে আমরা কাজ করছি। দক্ষ চিকিৎসক, অভিজ্ঞ টিম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলে মফস্বলের হাসপাতালেও আধুনিক ও জটিল অস্ত্রোপচার নিরাপদে সম্পন্ন করা সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।”

Model Hospital

এটি ডা. মো. আরিফ উল হাসানের প্রথম আলোচিত অস্ত্রোপচার নয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একই হাসপাতালে তিনি এক নারীর পেট থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেন। পরে একই বছরের আরেকটি অস্ত্রোপচারে ২২ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে প্রায় ৩ কেজি ওজনের আরেকটি টিউমার সফলভাবে অপসারণ করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি এক ব্যক্তির পায়ুপথে আটকে থাকা প্রায় ৬ ইঞ্চি আকারের একটি ডাব অস্ত্রোপচার ছাড়াই সফলভাবে বের করে আলোচনায় আসেন। ঘটনাটি সে সময় দেশব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীর বাইরে মফস্বল পর্যায়ে এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া স্থানীয় মানুষের জন্য আশাব্যঞ্জক। এতে একদিকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরে যাওয়ার প্রয়োজন কমছে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ধারাবাহিকভাবে জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্যের কারণে ডা. মো. আরিফ উল হাসান শাহরাস্তিসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ মফস্বল অঞ্চলেও আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।