শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

মেতে ২১ হাজার -জুনে ১ লাখ ১৯ হাজার; হাজীগঞ্জে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ এম
মেতে ২১ হাজার -জুনে ১ লাখ ১৯ হাজার; হাজীগঞ্জে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল!

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ধেররা বাজারে অবস্থিত স্বর্ণালী পিভিসি পাইপ রিসাইকেল ফ্যাক্টরি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলেছে। ফ্যাক্টরির মালিক সৈয়দ মাহমুদ শাহ দাবি করেছেন, ভুল মিটার রিডিংয়ের কারণে জুন মাসে তাদের বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

তিনি জানান, মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ বিল ছিল প্রায় ২১ হাজার টাকা। অথচ জুন মাসে বিল এসেছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৩৭ টাকা, যা আগের কয়েক মাসের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

ফ্যাক্টরি মালিকের অভিযোগ, শিল্প মিটারের রিডিং নেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত না থেকে একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে দিয়ে মিটার রিডিং করিয়েছেন। এতে ভুল রিডিংয়ের কারণে অতিরিক্ত বিল তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সৈয়দ মাহমুদ শাহ বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। অস্বাভাবিক এই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এভাবে চলতে থাকলে কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে ২০ জন শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, “এই অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। দ্রুত বিষয়টি সমাধান না হলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যাবে।”

এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্রুত কারখানায় এসে মিটার পরীক্ষা, প্রকৃত ইউনিট যাচাই এবং সেই অনুযায়ী জুন মাসের বিল পুনঃনির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যথাযথ সমাধান না হলে বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।