সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে জোরপূর্বক জায়গা দখলের চেষ্টা, হামলায় আহত ৭

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ মার্চ, ২০২২, ১:১০ পিএম
মতলব দক্ষিণে জোরপূর্বক জায়গা দখলের চেষ্টা, হামলায় আহত ৭

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : মতলব দক্ষিণে জোরপূর্বক জায়গা দখল করতে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন সাতজন। গত ১৩ মার্চ দুপুর দুইটার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আধারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আধারা গ্রামের মৃত সাবিদ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম সওদাগর পৈত্রিক ও খরিদ সূত্রে মালিক হয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করে গত প্রায় ৩৫ বছর যাবত বসবাস করে আসছেন। গত ২ বছর আগে রফিকুল ইসলাম সওদাগরের বড় ভাই মমিন সওদাগরের মেয়ে নাছিমা খাতুন পাশর্^বর্তী বাসিন্দা আমির হোসেন সওদাগরের ছেলে কামাল সওদাগর গংদের কাছে প্রতারণা করে ভূয়া চৌহদ্দি দিয়ে রফিকুল ইসলাম সওদাগরের তপশীলোক্ত বসতভিটা বিক্রি করে দেন। এরপর থেকেই কামাল গং জোরপূর্বক উক্ত জায়গা দখলের চেষ্টা চালায়।

এরই জের ধরে গত ১৩ মার্চ দুপুরে কামাল গংদের পক্ষ নিয়ে তার শ^শুর নায়েরগাঁও এলাকার চান মিয়া সওদাগরের ছেলে আব্দুল মালেক সওদাগরের নেতৃত্বে আধারা গ্রামের আমির হোসেন সওদাগরের ছেলে কামাল সওদাগর, জামাল সওদাগর, গাজি মিয়ার ছেলে আমির হোসেন, আমির হোসেনের স্ত্রী আফিয়া খাতুনসহ ৩০/৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসীদল দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক রফিক সওদাগরের জায়গা দখলের চেষ্টা চালায়ি তাদের উপর হামলা করে। হামলায় রফিকুল ইসলাম সওদাগর, তার ভাগিনা খলিল সওদাগর, স্ত্রী শেফালী বেগম, খলিলের মেয়ে সালমা আক্তার, খলিলের ভাইয়ের স্ত্রী জুলিয়া আক্তার, আলমগীর সওদাগরের স্ত্রী রুমকিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

পরে রফিক সওদাগরের স্ত্রী শেফালী বেগম ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

Model Hospital

আহতদের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এসে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মো. খলিল সওদাগরকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হয়েছে।

আহত রফিকুল ইসলাম জানান, আমার পৈত্রিক ও খরিদকৃত জায়গা কামাল গংরা জোরপূর্বক দখল করতে চায়। এরই জের ধরে তারা দলবল নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম সওদাগরের স্ত্রী শেফালী বেগম বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মতলব দক্ষিণ থানার এএসআই আব্দুল মতিন জানান, অভিযোগ পেয়ে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

চাঁদপুরে আরএস টাওয়ারের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন সরানোর দাবি এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
চাঁদপুরে আরএস টাওয়ারের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন সরানোর দাবি এলাকাবাসীর
চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোডে অবস্থিত আরএস টাওয়ারের পাশ দিয়ে টানা ৩৩ হাজার ও ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, ভবনের পাশ ঘেঁষে থাকা বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ লাইন থেকে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এরই মধ্যে গত ৩ অক্টোবর ভবনটিতে বেড়াতে আসা দুই শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এ ঘটনায় চাঁদপুর পৌরসভা ভবনটির সামনের অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে ওই অংশটুকু বৈধ দাবি করে পৌরসভার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন ভবনটির মালিক রাসেল হোসেন।
ভবন মালিক রাসেল হোসেন জানান, তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ২০০৬ সালে চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকায় ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য ২০০৯ সালে পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন নেন। বাকি জমি ভবনের চারপাশে রয়েছে। ২০২৩ সালে সড়ক সম্প্রসারণের সময় তৎকালীন পৌর মেয়রের অনুরোধে ড্রেনেজ নির্মাণের জন্য ভবনের সামনের তিনটি সিঁড়ি ছেড়ে দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ভবনটির পাশ দিয়ে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। এ সমস্যা সমাধানে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর পরামর্শ ও সুপারিশ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কুমিল্লা বিভাগীয় দপ্তরেও আবেদন করেন তিনি। এসব আবেদনে ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ অক্টোবর আবারও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেছেন। এতে ঝুঁকিপূর্ণ সঞ্চালন লাইনটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ভবনটির পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটি যথাযথভাবে স্থানান্তর করা না হলে ভবিষ্যতে আরও দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকে যাবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে বিদ্যুৎ লাইনের ঝুঁকি থেকে ভবনটির বাসিন্দা ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।