শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ৬ গ্রামের মানুষের ভরসা নড়বড়ে এক বাঁশের সাঁকো !

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ মার্চ, ২০২২, ১:৩৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে ৬ গ্রামের মানুষের ভরসা নড়বড়ে এক বাঁশের সাঁকো !

এস. এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৬টি গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। বর্ষা এলে দুর্ভোগ বাড়ে। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। ঝড়বৃষ্টিতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসলে নেতা আর কর্মীদের মুখে শুধু কথার ফুলঝুরি ফোটে। নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর সাক্ষাৎ মিলে না। বছরের পর বছর শুধুই আশ্বাস আর আশ্বাস। চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের উত্তরে সিআইপি বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালের উপর একটি সেতু নির্মাণের অভাবে এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন। ব্রিজ যে কবে নাগাদ হবে তা কেউ জানে না। গোবারচিত্রা- বদরপুর গ্রামের মাঝামাঝি সিআইপি খালের ওপর সেতু নির্মাণ এখনও ধোঁয়াশা। উপজেলার ৬টি গ্রামের প্রায় ১২ হাজার লোকের দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটি ব্রিজের। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের উচ্চমহলে বারবার ধর্না দিয়ে আশ্বাস মিললেও সেতু বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সেতু না থাকায় যাতায়াত, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেয়া, অন্যান্য মালামাল বহনে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। শুধু বাঁশের একটি সাঁকো অত্র অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা।

উপজেলার উত্তর- পূর্বাঞ্চলের ঘড়িহানা, চৌরাঙ্গা, গোবারচিত্রা, বদরপুর, মুকুন্দপুর ও বাছপাড় ছয় গ্রামের প্রায় ১২ হাজার লোকের যাতায়াতের একমাত্র পথ এ বাঁশের সাঁকো। জনগুরুত্বপূর্ণ ওই স্থানে আজও সেতু নির্মিত না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ফলে কৃষিসমৃদ্ধ এই এলাকায় আজও তেমন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।

Model Hospital

বদরপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মোস্তফাসহ অনেকে জানান, স্বল্প সময়ে জেলা ও উপজেলা সদর, মুন্সীরহাট জিএন্ডএ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, মূলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, মূলপাড়া সামছুদ্দিন খান কারিগরি ও বানিজ্য কলেজ, মুন্সীরহাট আই এইচ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, মুন্সীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদরপুর নূরাণী মাদ্রাসা, মুন্সীরহাট বাজার এবং একতা বাজারে যাতায়াতে এলাকার লোকজন এ পথে চলাচল করে থাকে। এ ছাড়া কৃষিপণ্য আনা-নেয়াও করে থাকে।

তারা আরো জানান, এখানে সেতু না থাকায় উৎপাদিত পণ্য পারাপারের জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। আবার সময়মতো বাজারে পৌঁছানো দুরূহ হয়ে উঠে। কত কষ্ট না দেখলে বুঝবেন না।

সুবিদপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহসিন হোসেন জানান, গ্রামবাসীর একটি সেতুর জন্য দুর্ভোগের সীমা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও সেতু তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।