বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

যে জমিতে দাঁড়িয়েছে মেহের ডিগ্রি কলেজ, সেই ভূমিদাতা মমতাজ বেগম পেলেন ৪২ বছর পর প্রাপ্য স্বীকৃতি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
যে জমিতে দাঁড়িয়েছে মেহের ডিগ্রি কলেজ, সেই ভূমিদাতা মমতাজ বেগম পেলেন ৪২ বছর পর প্রাপ্য স্বীকৃতি
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর মিললো প্রাপ্য স্বীকৃতি। ১৯৮৪ সালে চাঁদপুরের শাহরাস্তির মেহের ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ৩৫ শতাংশ জমি দান করেছিলেন মমতাজ বেগম। কিন্তু নানা কারণে এতদিন তাঁর সেই অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি। অবশেষে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ বিষয়টি পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে কলেজের ভূমিদাতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  বিষয়টি এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে কলেজের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মেহের ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি,  শিক্ষানুরাগী, দানবীর আবু ইউসুফ রুপন পাটওয়ারী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি, কলেজের দাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি, শিক্ষানুরাগী, দানবীর,  আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া।
সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটওয়ারী তার বক্তব্য  বলেন,প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সারাদেশে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করবে, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে রাখবে এবং মোবাইলের অপব্যবহার কমিয়ে মাঠমুখী ও পাঠমুখী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
পরিচালনা পর্ষদের দাতা সদস্য মমতাজ বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৮৪ সালে কলেজের জন্য দান করা তাঁর মমতাজ বেগমের ৩৫ শতাংশ ভূমির যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জমিটি কলেজের নামে রয়েছে, এটি আমরা জানতাম। তবে দীর্ঘদিন জানা ছিল না যে এই ৩৫ শতাংশ জমি মমতাজ বেগম দান করেছিলেন। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে আশ্বস্ত করি, তাঁর এই মহৎ অবদান অবশ্যই যথাযথ মর্যাদা পাবে। পরে তাঁর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইন্জি.মমিনুল হক এমপির  সঙ্গে আলোচনা করি। সবার ইতিবাচক মতামতের ভিত্তিতেই তাঁকে কলেজের ভূমিদাতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ৪২ বছর পর একজন নারী তাঁর প্রাপ্য সম্মান ফিরে পেয়েছেন। এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পুরো কলেজ পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়। বর্তমানে তিনি অসুস্থ রয়েছেন।আমরা তার চিকিৎসার জন্য  সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে  তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। ভবিষ্যতে কলেজের যেকোনো বড় অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হবে। তাঁর এই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল মানুষকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেট অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভাপতি আরও বলেন, মেহের ডিগ্রি কলেজকে সরকারি করার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান , স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিঃ মমিনুল হক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই কলেজটির নামের সঙ্গে সরকারি শব্দটি যুক্ত হবে  এবং দীর্ঘদিনের জনদাবি বাস্তবে রূপ নেবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, মানুষ একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু তার ভালো কাজ চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান একটি মহৎ কাজ। এমন উদ্যোগ সমাজকে আলোকিত করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপকৃত করে। আমরা ভূমিদাতার সুস্থতা কামনা করি। কলেজের উন্নয়নে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাশে থাকব।
কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, জমিটি কলেজের নামে থাকলেও এটি যে একজন দানশীল মানুষের দানের মাধ্যমে কলেজের নামে হস্তান্তর হয়েছিল, বিষয়টি দীর্ঘদিন অনেকেরই অজানা ছিল। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর পরিচালনা পর্ষদ তাঁর অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেরিতে হলেও একজন প্রকৃত ভূমিদাতাকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন (হিতৈষী সদস্য), কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি যদু চন্দ্র শীল, গাজী কবির হোসেন, আবুল কাসেম, ফারুক আহমেদ, আহসান উল্যাহ, ফারজানা আক্তার, উপাধ্যক্ষ জিয়াউদ্দীন চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital