দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর মিললো প্রাপ্য স্বীকৃতি। ১৯৮৪ সালে চাঁদপুরের শাহরাস্তির মেহের ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ৩৫ শতাংশ জমি দান করেছিলেন মমতাজ বেগম। কিন্তু নানা কারণে এতদিন তাঁর সেই অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি। অবশেষে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ বিষয়টি পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে কলেজের ভূমিদাতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে কলেজের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মেহের ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, শিক্ষানুরাগী, দানবীর আবু ইউসুফ রুপন পাটওয়ারী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি, কলেজের দাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি, শিক্ষানুরাগী, দানবীর, আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া।
সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটওয়ারী তার বক্তব্য বলেন,প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সারাদেশে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করবে, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে রাখবে এবং মোবাইলের অপব্যবহার কমিয়ে মাঠমুখী ও পাঠমুখী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
পরিচালনা পর্ষদের দাতা সদস্য মমতাজ বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৮৪ সালে কলেজের জন্য দান করা তাঁর মমতাজ বেগমের ৩৫ শতাংশ ভূমির যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জমিটি কলেজের নামে রয়েছে, এটি আমরা জানতাম। তবে দীর্ঘদিন জানা ছিল না যে এই ৩৫ শতাংশ জমি মমতাজ বেগম দান করেছিলেন। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে আশ্বস্ত করি, তাঁর এই মহৎ অবদান অবশ্যই যথাযথ মর্যাদা পাবে। পরে তাঁর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইন্জি.মমিনুল হক এমপির সঙ্গে আলোচনা করি। সবার ইতিবাচক মতামতের ভিত্তিতেই তাঁকে কলেজের ভূমিদাতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ৪২ বছর পর একজন নারী তাঁর প্রাপ্য সম্মান ফিরে পেয়েছেন। এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পুরো কলেজ পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়। বর্তমানে তিনি অসুস্থ রয়েছেন।আমরা তার চিকিৎসার জন্য সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। ভবিষ্যতে কলেজের যেকোনো বড় অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হবে। তাঁর এই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল মানুষকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেট অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভাপতি আরও বলেন, মেহের ডিগ্রি কলেজকে সরকারি করার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান , স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিঃ মমিনুল হক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই কলেজটির নামের সঙ্গে সরকারি শব্দটি যুক্ত হবে এবং দীর্ঘদিনের জনদাবি বাস্তবে রূপ নেবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, মানুষ একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু তার ভালো কাজ চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান একটি মহৎ কাজ। এমন উদ্যোগ সমাজকে আলোকিত করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপকৃত করে। আমরা ভূমিদাতার সুস্থতা কামনা করি। কলেজের উন্নয়নে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাশে থাকব।
কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, জমিটি কলেজের নামে থাকলেও এটি যে একজন দানশীল মানুষের দানের মাধ্যমে কলেজের নামে হস্তান্তর হয়েছিল, বিষয়টি দীর্ঘদিন অনেকেরই অজানা ছিল। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর পরিচালনা পর্ষদ তাঁর অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেরিতে হলেও একজন প্রকৃত ভূমিদাতাকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন (হিতৈষী সদস্য), কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি যদু চন্দ্র শীল, গাজী কবির হোসেন, আবুল কাসেম, ফারুক আহমেদ, আহসান উল্যাহ, ফারজানা আক্তার, উপাধ্যক্ষ জিয়াউদ্দীন চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য।