বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্ধুর জানাজায় সনাতন বন্ধু প্রদীপ সরকার- চোখের জলে বিদায়ের শেষ প্রহর

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম
বন্ধুর জানাজায় সনাতন বন্ধু প্রদীপ সরকার- চোখের জলে বিদায়ের শেষ প্রহর

বন্ধুর লাশের দিকে তাকিয়ে আছে প্রদীপ সরকার।

বন্ধুত্বের কোনো ধর্ম নেই, নেই জাত-পাতের বিভেদ। সুখে-দুঃখে পাশে থাকা সেই বন্ধুত্বই কখনো কখনো মৃত্যুর পরও অটুট থাকে, যার এক আবেগঘন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু প্রদীপ সরকার। তার বাড়ি চাঁদপুরের উপজেলার দোয়াটি গ্রামে।

একই উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেন বাবুলের মৃত্যুর খবর যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না প্রদীপ সরকার। বুকভরা কষ্ট আর চোখের জলে বন্ধুর জানাজায় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। চারপাশে যখন সবাই প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর, তখন প্রদীপ সরকারের নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা আর অশ্রুসিক্ত চোখ যেন বলে দিচ্ছিল বন্ধু হারানোর বেদনা কোনো ধর্মের সীমারেখায় আটকে থাকে না।

জীবনের এক সময় একই সঙ্গে পথ চলেছেন দুই বন্ধু। হাসি-আনন্দ, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে কেটেছে তাদের জীবনের অনেকটা সময়। কিন্তু কে জানত, একদিন সেই প্রিয় বন্ধুকেই এভাবে শেষ বিদায় জানাতে হবে! কামাল হোসেন বাবুল (৫৫) ছিলেন সহজ-সরল ও স্নেহময়ী স্বভাবের মানুষ। বুধবার রাত ১১টার দিকে অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

বৃহস্পতিবার তার জানাজায় পরিবারের সদস্য, স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সবার দৃষ্টি কেড়েছে তার সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি।

Model Hospital

ধর্মীয় ভিন্নতা ভুলে বন্ধুর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়া এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের চোখেই আবেগের জন্ম দেয়।

জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে প্রদীপ সরকার যেন বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন পুরোনো স্মৃতিতে। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না তিনি। শেষবারের মতো বন্ধুকে দেখতে এসে নীরবে তাকিয়ে ছিলেন, আর চোখের জলে যেন বলছিলেন—‘বন্ধু, তুই চলে গেলি, কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বের স্মৃতিগুলো থেকে যাবে।

প্রদীপ সরকারের এই উপস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিল, মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক ধর্মের পরিচয়ের চেয়েও বড়। একজন মুসলিম বন্ধুর শেষ বিদায়ে একজন হিন্দু বন্ধুর অশ্রুসিক্ত উপস্থিতি সম্প্রীতি, মানবিকতা ও বন্ধুত্বের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।

চাঁদপুরে নার্সারির গাছ বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ এম
চাঁদপুরে নার্সারির গাছ বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ
চাঁদপুর পৌর ১৩নং ওয়ার্ডের বাহের খলিশাডুলীতে নার্সারির ফলজসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৪ সেপ্টেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে এ ঘটনা নজরে আসে।
ভুক্তভোগী নার্সারির মালিক আল আমিন সুমন জানান, আমার এখানে লাখ লাখ টাকামূল্যের ফলজসহ নানা গাছের চারা রয়েছে। দুষ্কৃতিরা সব বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমি এখন চরম হতাশায় রয়েছি। নার্সারিটি মূলত আমার পিতা নাছির মোল্লা পরিচালনা করতেন।
তিনি আরও জানান, আমাদের এই নার্সারিটি লীজের জমিতে করা। লীজ নিয়ে ঝামেলা চলছিলো জমির মালিক পক্ষের সাথে। তারাই পরিকল্পিতভাবে আমাদের সাথে না পেরে গাছের সাথে এমন অমানবিক শত্রুতা দেখালো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশা করছি।
স্থানীয়রা জানান, জমির লীজ সংক্রান্ত সমস্যা ছিলো নার্সারি ও জমির মালিকের মধ্যে। এটার কারনে এমন ঘটনা হতে পারে। তবে গাছের সাথে শত্রুতা কোন ভালো মানুষের কাজ হতে পারে না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দেখতে চাই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নার্সারির জমির মালিক পক্ষের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এস আই মোস্তফা বলেন, আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।