মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্ধুর জানাজায় সনাতন বন্ধু প্রদীপ সরকার- চোখের জলে বিদায়ের শেষ প্রহর

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম
বন্ধুর জানাজায় সনাতন বন্ধু প্রদীপ সরকার- চোখের জলে বিদায়ের শেষ প্রহর

বন্ধুর লাশের দিকে তাকিয়ে আছে প্রদীপ সরকার।

বন্ধুত্বের কোনো ধর্ম নেই, নেই জাত-পাতের বিভেদ। সুখে-দুঃখে পাশে থাকা সেই বন্ধুত্বই কখনো কখনো মৃত্যুর পরও অটুট থাকে, যার এক আবেগঘন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু প্রদীপ সরকার। তার বাড়ি চাঁদপুরের উপজেলার দোয়াটি গ্রামে।

একই উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেন বাবুলের মৃত্যুর খবর যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না প্রদীপ সরকার। বুকভরা কষ্ট আর চোখের জলে বন্ধুর জানাজায় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। চারপাশে যখন সবাই প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর, তখন প্রদীপ সরকারের নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা আর অশ্রুসিক্ত চোখ যেন বলে দিচ্ছিল বন্ধু হারানোর বেদনা কোনো ধর্মের সীমারেখায় আটকে থাকে না।

জীবনের এক সময় একই সঙ্গে পথ চলেছেন দুই বন্ধু। হাসি-আনন্দ, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে কেটেছে তাদের জীবনের অনেকটা সময়। কিন্তু কে জানত, একদিন সেই প্রিয় বন্ধুকেই এভাবে শেষ বিদায় জানাতে হবে! কামাল হোসেন বাবুল (৫৫) ছিলেন সহজ-সরল ও স্নেহময়ী স্বভাবের মানুষ। বুধবার রাত ১১টার দিকে অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

বৃহস্পতিবার তার জানাজায় পরিবারের সদস্য, স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সবার দৃষ্টি কেড়েছে তার সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি।

Model Hospital

ধর্মীয় ভিন্নতা ভুলে বন্ধুর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়া এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের চোখেই আবেগের জন্ম দেয়।

জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে প্রদীপ সরকার যেন বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন পুরোনো স্মৃতিতে। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না তিনি। শেষবারের মতো বন্ধুকে দেখতে এসে নীরবে তাকিয়ে ছিলেন, আর চোখের জলে যেন বলছিলেন—‘বন্ধু, তুই চলে গেলি, কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বের স্মৃতিগুলো থেকে যাবে।

প্রদীপ সরকারের এই উপস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিল, মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক ধর্মের পরিচয়ের চেয়েও বড়। একজন মুসলিম বন্ধুর শেষ বিদায়ে একজন হিন্দু বন্ধুর অশ্রুসিক্ত উপস্থিতি সম্প্রীতি, মানবিকতা ও বন্ধুত্বের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।

বিমানবন্দরে সংবর্ধিত রাজারগাঁওয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল করিম বেপারী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
বিমানবন্দরে সংবর্ধিত রাজারগাঁওয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল করিম বেপারী

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১ নং রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল করিম বেপারী দেশে ফেরায় তাকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবর্ধনা দিয়েছেন দুই শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। রাজারগাঁও ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রবীণ-নবীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এতে অংশ নেন।

আব্দুল করিম বেপারী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি রাজারগাঁও ইউনিয়নবাসীর সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। সমান ভাবে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি-চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক মমিন ভাইয়ের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করব। রাজারগাঁও ইউনিয়নকে অন্যায়, অনিয়ম,অপরাধ, দুর্নীতি, লুটপাট মুক্ত – একটি সুন্দর ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি।”

Model Hospital

এদিকে সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বলেন, তারা আব্দুল করিম বেপারীকে রাজারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান। তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের প্রবীণ ও নবীন নেতাকর্মী, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষে আব্দুল করিম বেপারী বলেন, “আমার নেতাকর্মী, সমর্থক ও ইউনিয়নবাসীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দেখিয়েছেন, তা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও স্মরণীয় একটি মুহূর্ত।”