শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর সদরে এলজিইডির শত কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, চলমান একাধিক কাজ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২২ পিএম
চাঁদপুর সদরে এলজিইডির শত কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, চলমান একাধিক কাজ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলছে। পাশে এলজিইডি চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাহাত আমিন পাটোয়ারী।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণসহ একাধিক প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে উপজেলার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা আরও গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা। ষাটের দশকে পল্লীপূর্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এর কর্মপরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহর ও নগরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নেও এলজিইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার উন্নয়নের পাশাপাশি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়নেও এলজিইডি কাজ করছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলাতেও এলজিইডির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জি.ও.বি. মেইনটেন্যান্সের আওতায় ৭টি কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৪টি কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১১ টাকা। সিডব্লিউএসপি প্রকল্পের আওতায় ৬টি প্যাকেজ অনুমোদিত হয়েছে এবং সবগুলো প্যাকেজের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৮ হাজার ২৪০ টাকা। এছাড়া একটি ভূমি অফিস নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা। আরসিআইপি প্রকল্পের আওতায় একটি কাজ চলমান রয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৪০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সিসিবি প্রকল্পের আওতায় ১১টি প্যাকেজের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ৪০৯ টাকা। পাশাপাশি আরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় দুটি প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।

এলজিইডি চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাহাত আমিন পাটোয়ারী বলেন, গ্রামকে শহরের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সংযুক্ত করতে এলজিইডি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এসব অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া এলজিইডির অন্যতম দায়িত্ব।

Model Hospital

চাঁদপুরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি মোবাইল মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে অধিক সংখ্যক সড়ক মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, এলজিইডি দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পল্লী অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রত্যন্ত পল্লীর মানুষের কাছে পাকা সড়ক যোগাযোগের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এসব অবকাঠামো মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষিপণ্য ও মৎস্য সহজে বাজারজাত ও পরিবহন করা সম্ভব হওয়ায় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতেও এলজিইডির অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

মো. রাহাত আমিন পাটোয়ারী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় অংশীজনদের অংশগ্রহণে প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে এলজিইডি।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অবকাঠামোর তথ্যভান্ডার, ম্যাপ, কারিগরি বিনির্দেশনা, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন ও বিভিন্ন ম্যানুয়াল প্রণয়ন করা হয়। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের মান ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলায় চলমান এসব উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়িত হলে উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা ও সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে আরও গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ার ফলে গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্যজাত পণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে এলজিইডির এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চাঁদপুর সদর উপজেলার গ্রামীণ জনপদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।