শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

একটি রাস্তার জন্য ৫০ বছর অপেক্ষায় কচুয়ার দুই গ্রামবাসী!

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম
একটি রাস্তার জন্য ৫০ বছর অপেক্ষায় কচুয়ার দুই গ্রামবাসী!

কচুয়ায় আকানিয়া ও নাছিরপুর এলাকায় চলাচলের রাস্তা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাশেঁর সাকোঁ দিয়ে পার হচ্ছে স্থানীয়রা,একটি রাস্তার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।

কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের আকানিয়া ও নাছিরপুর গ্রামের একটি রাস্তার অভাবে শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকায় ৪ যুগেও কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট চলে গেলে আর খবর থাকে না। রাস্তা ও একটি কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কড়ইয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আকানিয়া ও নাছিরপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়িসহ ১৫টি বাড়ির চলাচলের রাস্তার জন্য দীর্ঘ ৫০ বছর অপেক্ষায় রয়েছে বর্তমানে দুর্ভোগে পড়ে থাকা মানুষগুলো।

বিশেষ করে আকানিয়া নাছিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, আকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ মসজিদ মাদ্রাসার মুসল্লী ও শিক্ষার্থীরা করতে হয় অন্যের বসতবাড়ির উপর দিয়ে,চলাচলের নেই কোন রাস্তা। ওই এলাকার আকানিয়া নাছিরপুর মাজার থেকে মিয়াজী বাড়ির লোকজনের চলাচলের জন্য সরকারি হালট ও খাল থাকলেও ৫০ বছর ধরে রাস্তাটি করা হয়নি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার স্কুল শিক্ষার্থী, শিশু বৃদ্ধরা চলাচলে অভাবনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়।

ভেঙ্গে যাওয়া ৪/৫টি স্থানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দেওয়া হয়েছে গাছ ও বাঁশের সাঁকো। সে সাঁকো থেকে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হয়ে যাচ্ছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনী কাজে। ওই এলাকার কেউ মারা গেলে জানাজা ও দাফন করার জন্য লাশটি নিতে খালে নৌকা করে ।

Model Hospital

কোন ব্যক্তি অসুস্থ হলে হসপিটালে নিতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের কাঁধে করে। এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। একটি নতুন রাস্তা হলে মানুষের র্দীঘদিনের আশা পূরন হবে এবং স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবে।

ওই এলাকার বাসিন্দা বিলকিস বেগম, নুরুন্নাহার বেগম, হাসিনা বেগম, নাসিমা আক্তার, রহিমা বেগম সহ একাধিক নারীরা বলেন,এ দুর্ভোগের শেষ কোথায়? ছবি তুলে আর কি হবে। অনেক বছর ধরে শুনে আসছি রাস্তা হবে? কিন্তু রাস্তা হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে চলাচলে আমাদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়। আমাদের রাস্তা না থাকায় ছেলে-মেয়েদেরকে বিয়ে করতে এবং দিয়ে দিতে পারছিনা।

এমন কি কেউ আমাদের সাথে আত্মীয়তা করতে চাচ্ছে না। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে,আমাদের রাস্তাটি কেউ করে দিচ্ছে না। সন্তানদেরকেও লেখাপড়া করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারছিনা। বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি,এই রাস্তাটি দ্রুত করে দিয়ে আমরা যেন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারি।

ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, এই এলাকাটি জনবল এলাকা, চলাচলের নেই কোন রাস্তা।এলাকার মানুষের সুবিধার্থে আমাদের নেতা কচুয়ার সংসদ সদস্য ও মাননীয় শিক্ষা ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড.আনম এহছানুল হক মিলন এমপি’র কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী মো. সজিব হোসেন,বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন,শিশু শিক্ষার্থী রাফি,নয়ন ইসলাম বলেন,স্কুল ও মাদ্রাসায় আশার সময় হলেই দুশ্চিন্তায় পড়ি। অভিভাবকরা অনেক সময় সাথে এগিয়ে দিতে আসে না। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে স্লিপ কেটে বই খাতা নিয়ে অনেক সময় খাদে পড়ে যাওয়া লাগে। আমরা একটি রাস্তা চাই। তাহলে আর কষ্ট থাকবে না।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।