বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে অদম্য শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণে পাশে ইউএনও মনিরা খাতুন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩০ এম
শাহরাস্তিতে অদম্য শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণে পাশে ইউএনও মনিরা খাতুন
আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তখন এক অদম্য শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও) মনিরা খাতুন।
মঙ্গলবার,( ২৫ আগষ্ট) সকালে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহি অফিসারের কার্যালয়ে ওই শিক্ষার্থীর অসহায়ত্বের কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই ও সহায়ক গাইড বই দিয়ে তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শাহরাস্তি উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  ওই শিক্ষার্থী পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিল। একপর্যায়ে অর্থাভাবে তার শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার উপক্রম হলে সে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট  এসে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে আবেদন করে।
শিক্ষার্থীর আবেদন ও তার আকুতি মনোযোগ দিয়ে শোনেন ইউএনও মনিরা খাতুন। পরে পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীর হাতে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই ও সহায়ক গাইড বই তুলে দেন তিনি।
এ সময় ইউএনও মনিরা খাতুন শিক্ষার্থীকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সংকট তোমার স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না। প্রতিকূলতাকে জয় করে তোমাকে মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতে অর্থের অভাবে পড়াশোনা নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে সংকোচ না করে উপজেলা প্রশাসনকে জানাবে। তোমার শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন,একজন শিক্ষার্থীও যেন শুধু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা আন্তরিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি চাউর হলে, উপজেলা প্রশাসনের এমন মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে প্রশাসন এভাবে দাঁড়ালে তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পাবে।
একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সচল রাখার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।