শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির ৮ম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে লিগ্যাল এইড কাজ করছে : দায়রা জজ সামছুন্নাহার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৫ পিএম
অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে লিগ্যাল এইড কাজ করছে : দায়রা জজ সামছুন্নাহার
চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির ৮ম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর জেলা জজকোর্টের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের সিনিয়র  জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান সামছুন্নাহার।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, হতদরিদ্র ও অসহায়  মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে জেলা  লিগ্যাল এইড কমিটি সার্বক্ষণিক  কাজ করছে। সাধারণ অসহায় মানুষের জন্য লিগ্যাল এইড কমিটির দ্বার উম্মুক্ত।
লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পাচ্ছে। বিগত সময়ের তুলনায় লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে লিগ্যাল এইডের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে। ফলে অধিক সংখ্যক মানুষ এখন আইনগত সহায়তা নিতে লিগ্যাল এইডের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
মামলার আপোষ-নিষ্পত্তির সংখ্যাও বাড়ছে।তবে এক্ষেত্রে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন,চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের নিজস্ব অফিস থাকলে এর কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা পাবে।
সরকার ইতিমধ্যে জেলা লিগ্যাল এইডের  নিজস্ব অফিসের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এখন সবার সহযোগিতায় একটি জায়গা পেলে সেখানেই নতুন ভবন করা হবে।এক্ষেত্রে লিগ্যাল এইডের সদস্যদের সহযোগিতা চাই।বিশেষ করে জেলা আইনজীবী সমিতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সহযোগিতা চাই। আপনারা চাঁদপুরের সব এলাকা চিনেন।কোথায় সরকারি জায়গা আছে। যাতে অসহায়  মানুষ যেতে পারে, আইনী সুবিধা নিতে পারে এমন জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে।সেখানে নতুন ভবন করা হবে।
চাঁদপুর জেলা চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার (বিচারক) সিনিয়র সিভিল জজ মোঃ আবদুল আলীম এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিজ্ঞ বিচারক তাসনীম জোহরা,  চাঁদপুর জেলা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  উজালা রানী চাকমা, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: খায়রুল কবির, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. শামছুল ইসলাম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সাল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড:শিরিন সুলতানা মুক্তা,জেলা কারাগারের সুপারের প্রতিনিধি জুবাইর হোসেন, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা: মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সলসহ লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যবৃন্দ।
সভায় চাঁদপুর জেলা চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার (বিচারক) সিনিয়র সিভিল জজ মো: আবদুল আলীম জানা, আগস্ট মাসে ১৩৫জনকে আইনি পরামর্শ  দেওয়া হয়েছে। মামলা দায়ের করা হয়েছে ১২টি। মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৫টি। এছাড়া এডিআর এর মাধ্যমে ১০২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সফল হয়েছে ৪০টি। মোট নিষ্পত্তিকৃত মামলা ১৩৮টি। জরিমানা আদায় করা হয় ৭৭লক্ষ ৪০হাজার টাকা।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।