শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তির রায়শ্রী উত্তরে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ

মোঃ মাসুদ রানা শাহরাস্তি প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
শাহরাস্তির রায়শ্রী উত্তরে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ
শাহরাস্তিতে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, মাদক প্রতিরোধ এবং মাদক ব্যবসা ও পাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের উনকিলা রেলওয়ে বাজারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উনকিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উনকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সমন্বয়ে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটওয়ারী লিটন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের সচেতন মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “মাদক প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং মোবাইল ফোনে কী করছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিতভাবে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশের আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ওসি আরও বলেন, “শুধু অভিযান পরিচালনা করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকাসক্তদের ঘৃণা নয়, তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শাহরাস্তিকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটওয়ারী লিটন বলেন, “মাদক আমাদের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।
শাহরাস্তিকে মাদকমুক্ত করতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  রায়শ্রী উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন মুশু , উনকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ইউপি সচিব মোহাম্মদ আমির হোসেন, বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান পিন্টু, ইমরান হোসেন পাটোয়ারী, সুফিয়া বেগম, হুমায়ুন কবির, বাবুল, মিজানুর রহমান ও ডাক্তার খোকন।
এছাড়া যুবদল নেতা শাহজাহান, সোহেল, ইউসুফ পাটোয়ারী, শাওন, জহির ও সিদ্দিক বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। মাদক ব্যবসা ও পাচারের তথ্য পুলিশকে দিয়ে সহযোগিতা এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ সদস্য, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, উনকিলা উচ্চ বিদ্যালয় ও খামপাড় দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে উনকিলা রেলওয়ে বাজার থেকে উনকিলা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত মাদকবিরোধী র‍্যালি বের করা হয়।
র‍্যালিতে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, শাহরাস্তি মডেল থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন অংশ নেন।
উল্লেখ্য, শাহরাস্তিতে এর আগেও মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে এবং মোবাইলে কী করে, এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষক, প্রশাসন ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।