বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জাতীয় হিন্দু মহাজোট বর্ণাঢ্য র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
চাঁদপুরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জাতীয় হিন্দু মহাজোট বর্ণাঢ্য র‍্যালি

শ্রীকৃষ্ণের শুভ আভির্ভাব তিথি (জন্মাষ্টমী) উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট চাঁদপুর জেলা শাখার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়েছে।

৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে সংগঠনের চাঁদপুর জেলা আহবায়ক রঞ্জীত রায় চৌধুরী নেতৃত্বে এ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শহরের গোপাল জিউ আখড় মন্দির কেন্দ্রস্থল থেকে উৎসবমুখর ও সুসজ্জিত র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তবৃন্দ শ্রীকৃষ্ণের বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার, ফেস্টুন এবং রথ নিয়ে অংশ নেন। অনেক শিশু-কিশোরকে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধাকান্তের সাজে সজ্জিত হতে দেখা যায়, যা র‍্যালিতে বিশেষ আকর্ষণ যোগ করে।

র‍্যালি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় চাঁদপুর জেলা হিন্দু মহাজোটের আহবায়ক রঞ্জীত রায় চৌধুরী, যুগ্ন আহবায়ক দীপঙ্কর রায় দীপক, যুগ্ন- সদস্য সচিব অমল কান্তি ধর, কার্যকরী সদস্য অখিল দেবনাথ, বীণাপানি দেবনাথ, উপদেষ্টা রতন দাস, ছাত্র মহাজোট চাঁদপুর সদর উপজেলার আহবায়ক কান্ত দেবনাথ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

Model Hospital

বক্তারা বলেন, “পাপ মোচন ও অধর্মকে দূর করে ধরায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আর্ভিবাব হয়েছিল। সমাজে সত্য, ন্যায় ও মানবতা প্রতিষ্ঠায় তাঁর শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।” নেতৃবৃন্দ আবহমান বাংলার সাম্পদায়িক প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সামাজিক, ধর্মীয় ও মহাজোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ হাজারো ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।