শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সামাজিক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে তানিয়া ইশতিয়াক খানকে হেয় প্রতিপন্নের অপচেষ্টা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
সামাজিক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে তানিয়া ইশতিয়াক খানকে হেয় প্রতিপন্নের অপচেষ্টা

নারীদের স্বাবলম্বী করা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত সামাজিক সংগঠন বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা তানিয়া ইশতিয়াক খানের সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে অতীতের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবি বিকৃত করে এবং অপ্রাসঙ্গিক ও বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তানিয়া ইশতিয়াক খান। একই সঙ্গে জেলার অভিভাবক মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

তানিয়া ইশতিয়াক খান জানান, ২০২০ সালে সমাজের কল্যাণে ‘বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সমাজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্বার্থে তৎকালীন সরকারের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, মেয়রসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হয়েছে। এসব কর্মসূচির ছবি সে সময় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বর্তমানে ওই ছবিগুলোকে কেন্দ্র করে কয়েকজন রাজনৈতিক নারী নেত্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

এ বিষয়ে তানিয়া ইশতিয়াক খান বলেন, আমার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের জন্য করা ভালো কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীকে নিয়ে যেভাবে কুরুচিপূর্ণ ও নীতি-বিবর্জিত মন্তব্য করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সবাইকে কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

Model Hospital

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তানিয়া ইশতিয়াক খানের নেতৃত্বে ‘বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’ চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নানা মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিনামূল্যে হাতের কাজের প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরিতে সহযোগিতা, সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ, চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, চশমা বিতরণ ও ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বিভিন্ন মাদ্রাসায় লাইট, ফ্যান ও পানির ফিল্টার প্রদান এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণ, শীতার্তদের শীতবস্ত্র ও কম্বল প্রদান এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, হুইলচেয়ার বিতরণ ও কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।

মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে তানিয়া ইশতিয়াক খান জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তানিয়া ইশতিয়াক খানের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তানিয়া ইশতিয়াক খান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও তথ্য বিকৃত করে প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।