বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুবধারার চেয়ারম্যান জুলহাস গ্রেফতার

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ পিএম
হাজীগঞ্জে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুবধারার চেয়ারম্যান জুলহাস গ্রেফতার

চাঁদপুরে গ্রাহকদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা যুবধারা সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান জুলহাস মিয়াকে গ্রেফতার করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হাজীগঞ্জ থানার এসআই আবির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে জুলহাস মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা গ্রহণ করে আত্মসাতের অভিযোগে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন। ওই মামলায় জুলহাস মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

গ্রেফতার জুলহাস মিয়া হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়নের আবুল বাশারের ছেলে। যুবধারা সমবায় সমিতির চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট, বাকিলা ও হাজীগঞ্জে অফিস রয়েছে বলে জানা গেছে।

Model Hospital

হাজীগঞ্জ থানার এসআই আবির হোসেন বলেন, ‘জুলহাস মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

এদিকে জুলহাস মিয়ার গ্রেফতারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, সমিতিতে টাকা জমা রাখার পর অনেক গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা এখনো টাকা পাওনা রয়েছেন কিংবা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় ও আদালতে যোগাযোগ করবেন।

তবে জুলহাস মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।