বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

আকাশে মেঘ জমলেই বুক কেঁপে ওঠে সাদ্দামের, চার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
আকাশে মেঘ জমলেই বুক কেঁপে ওঠে সাদ্দামের, চার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন
আকাশে মেঘ জমলেই বুক কেঁপে ওঠে সাদ্দাম হোসেনের। বৃষ্টি নামলে ঘরের ভেতরেই বসাতে হয় হাঁড়ি-পাতিল, ফুটো টিনের চাল বেয়ে নামা পানি ঠেকাতে। ঝড়ের রাতে ঘুম হয় না—কখন যেন মাথার ওপরের শেষ আশ্রয়টুকুও ভেঙে পড়ে, এই আতঙ্কে রাত কাটে জেগে জেগে।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দা চার সন্তানের জনক। জরাজীর্ণ টিনের একটি ভাঙা ঘরে পুরো পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি বছরের পর বছর। সংসারের নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থায় ঘর মেরামতের কথা তো দূরের কথা, দুবেলা খাবার জোগাড় করাই তার কাছে রীতিমতো যুদ্ধ।
স্থানীয়রা জানান, সাদ্দাম হোসেন পরিশ্রমী মানুষ, কিন্তু নিয়মিত রোজগারের কোনো নিশ্চিত উৎস নেই তার। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বেড়ে উঠছে তার চার সন্তান। খেলাধুলা আর খুনসুটিতে তাদের মুখে এখনো হাসি লেগে থাকলেও, ভবিষ্যতের প্রশ্নে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর অনিশ্চয়তা।
“একটি ঘর শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা, সম্মান ও বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়”—স্থানীয় সমাজকর্মীরা এমন মন্তব্য করে বলছেন, সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই।
পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন এলাকার কিছু উদ্যোগী তরুণ। তারা সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি টেকসই ঘর নির্মাণ করে দেওয়া যায় এই অসহায় পরিবারকে।
সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করা যাবে— ফয়সাল ফাহিম: 01647118308, মিরাজ হোসেন: 01712305607। ঠিকানা: নোয়াপাড়া, শাহরাস্তি, চাঁদপুর।
একটি পরিবারের জীবনে সামান্য সহযোগিতাই বয়ে আনতে পারে আশার নতুন আলো। সমাজের বিবেকবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।