রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

দানপত্র দলিল হস্তান্তর, দ্রুত চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্নের প্রত্যাশা

মেহের ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে গেছে, দ্রুতই চূড়ান্ত হবে” : মমিনুল হক এমপি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ এম
মেহের ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে গেছে, দ্রুতই চূড়ান্ত হবে” : মমিনুল হক এমপি
শাহরাস্তির ঐতিহ্যবাহী মেহের ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের (সরকারিকরণ) প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। কলেজটি সরকারিকরণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে দানপত্র দলিল (Deed of Gift) হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি -হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি লায়ন প্রকৌশলী মমিনুল হক।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মেহের ডিগ্রি কলেজকে সরকারিকরণের উদ্যোগ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। আজ দানপত্র দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে আমরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করলাম। ইনশাআল্লাহ, প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কলেজটি দ্রুত সরকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে তিনি সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। মেহের ডিগ্রি কলেজের পাশাপাশি শাহরাস্তির শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি, নতুন সেতু নির্মাণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।মমিনুল হক বলেন, আমি ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থে কাজ করি না।
এলাকার মানুষের কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। যে কাজগুলো মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শাহরাস্তিতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, মেহের ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় দানপত্র দলিল হস্তান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকতাগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করছি, পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়াগুলোও দ্রুত সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি ব্যবস্থাপনায় এলে শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। মেহের ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ হলে শাহরাস্তি ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীরা এর সুফল পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আবু ইউসুফ রূপন বলেন, “মেহের ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের দাবি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। আজ দানপত্র দলিল হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।তিনি আরও বলেন, জাতীয়করণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ পুরো এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।
কলেজ উপাধ্যক্ষ মো. জিয়াউদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, শাহরাস্তি সহকারী  কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান, শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কলেজের দাতা সদস্য আয়েত আলী ভূঁইয়া,কলেজের দাতা সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুকবুল হোসেন, কেন্দ্রীয় তাঁতি দলের সাবেক সভাপতি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক পাটোয়ারী, যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, যুবদলের সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গনি,ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ,পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মাজাহারুল ইসলাম জুয়েল,ওলামাদলের  সভাপতি মাওঃ মোস্তাফিজুর রহমান । পেশাজীবী সংগঠনের মাধ্যমিক শিক্ষক সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আঃ রহিম, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন এমএসসি, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুকবুল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা লাভলীসহ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গভর্নিং বডির সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতায় প্রধান অতিথি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), কলেজের অধ্যক্ষ, গভর্নিং বডির সভাপতি ও সাক্ষীগণ প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সম্পন্ন করেন। পরে উপস্থিত সাব-রেজিস্ট্রার ফরিদা ইয়াসমিনের স্বাক্ষরের মাধ্যমে দানপত্র দলিল হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণতা পায়। কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মেহের ডিগ্রি কলেজের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। দানপত্র দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে জাতীয়করণের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আমরা আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দ্রুতই চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
জানা গেছে, সরকার গঠনের পর  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর সফরকালে মেহের ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কলেজটি সরকারিকরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার দানপত্র দলিল হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর মাধ্যমে কলেজটি জাতীয়করণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাবে।

চাঁদপুরে সালিশের নামে হয়রানির অভিযোগে স্বপন মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৮ এম
চাঁদপুরে সালিশের নামে হয়রানির অভিযোগে স্বপন মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সদর উপজেলা বিএনপি। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে জমি-জমা সংক্রান্ত সালিশে জড়ানো এবং সালিশের নামে সাধারণ জনগণকে হয়রানির অভিযোগে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) তারিখের ওই পত্রে স্বাক্ষর করেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন ও সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী ঢালী।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, জমি-জমা সংক্রান্ত দেনদরবার ও সালিশ বৈঠকে না জড়ানোর জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে চিঠির মাধ্যমে সব নেতাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। স্বপন মাহমুদকেও আগে চিঠি ও মৌখিকভাবে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, উপজেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বপন মাহমুদ ৪ অক্টোবর রাতে সালিশ বৈঠকের নামে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করেছেন।

Model Hospital

এ অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত অমান্য করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।