শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
কচুয়ায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

চাঁদপুরের কচুয়ায় মিথ্যা মামলায় হয়রানির প্রতিবাদ এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে নাউলা চৌরাস্তা মোড় এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিবাদ করায় ১০ নং ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন প্রধান ও ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. আজিজুল ইসলামকে জড়িয়ে একটি মামলা করা হয়েছে। তাঁরা এ মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম পাটোয়ারী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডাক্তার আব্দুল কাদের, শ্রীরামপুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মনীর হোসেন, উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন খোকন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. কাউছার হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, সমাজসেবক গাজী শাহ আলম ও বিএনপি নেতা ফারুক হোসেনসহ অন্যরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, আইনগিরি গ্রামের রাসেল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতা, চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, রাসেলের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। সম্প্রতি এক ব্যক্তির অটোরিকশা চুরি করে বিক্রি করার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় রাসেলের মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে নাছির উদ্দিন প্রধান ও আজিজুল ইসলামকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন বলে বক্তারা দাবি করেন।

Model Hospital

তাঁরা আরও বলেন, নাছির উদ্দিন প্রধান দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে আজিজুল ইসলামও এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং হয়রানি বন্ধের দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে রাসেল হোসেন ও রাশেদা বেগমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

মামলার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখিত গ্রাম্য চিকিৎসক সেলিম হোসেন ও দুলু মিঞা দাবি করেন, তাঁদের না জানিয়েই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, নাছির উদ্দিন প্রধান ও আজিজুল ইসলাম ভালো মানুষ এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তাঁরা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এদিকে বাদী রাশেদা বেগমের ভাই তাজুল ইসলাম বলেন, তাঁর ভাগনে রাসেল মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এলাকায় চুরির অভিযোগে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি মিথ্যা বলেও তিনি দাবি করেন।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এলাকাবাসী মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত, নাছির উদ্দিন প্রধান ও আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন। তাঁর অভিযোগ, জমির সীমানা নির্ধারণের পর প্রতিপক্ষ নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাটি উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের।
সাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে তিনি সাড়ে তিন শতাংশ জমি কেনেন। সম্প্রতি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, নুরু মিয়ার ছেলে সাহাদাত হোসেন, তাঁর ভগ্নিপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাস্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেনের ভাষ্য, জমি পরিমাপের সময় তাঁর কেনা জমির একটি অংশ নুরু মিয়ার দখলে রয়েছে বলে চিহ্নিত হয়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে জমিটি বুঝে নেন তিনি। তাঁর দাবি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের পর থেকেই নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলছেন।
সাহাদাত হোসেন আরও বলেন, তাঁর জমিতে কয়েকটি কদমগাছ ছিল। নুরু মিয়া সেগুলো প্রকাশ্যে কেটে ফেলেছেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাছের অবশিষ্ট গোড়ার ছবি তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আমি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। অথচ জমির সীমানা নির্ধারণের পর গাছ কাটার অভিযোগে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কথা প্রচার করা হচ্ছে। এতে আমি বিব্রত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। আমি চাই, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু জানান, সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমিটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে গাছ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নুরু মিয়ার দাবি, তাঁকে না জানিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়েছে এবং তাঁর জমির পাশের গাছ তুলে কেটে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জমি পরিমাপের সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, আপনার ছেলে সাহাদাত হোসেন ও ভগ্নিপতি সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাষ্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন এবং আপনার দখলে থাকা ভূমি কর্মকর্তার জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এমন প্রশ্ন করা হলে নুরু মিয়া এড়িয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নুরু মিয়া তাঁকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তিনি তা দেননি।
সাহাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তাঁকে দোষারোপ করা সমীচীন নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।