শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে বিষ্ণুদী যুব সমাজের মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৮ পিএম
চাঁদপুরে বিষ্ণুদী যুব সমাজের মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন
যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে চাঁদপুরে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট সিজন-১ এর  উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিষ্ণুদী যুব সমাজের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়। ১৬টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. সফিউদ্দিন বাবলু।
ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কাউসার হামিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হারুনুর রশিদ জাকির, পৌর মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক শেখ মো. জিলানী, চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান এবং চাঁদপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন আহমেদ কাউসার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সফিউদ্দিন বাবলু বলেন, মাদক যুবসমাজ ও পরিবারের জন্য একটি বড় অভিশাপ। এর থেকে মুক্ত হতে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার কোন বিকল্প নেই। তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলা এবং সংস্কৃতি চর্চার উপর জোর দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় সারা দেশের ন্যায় আমাদের চাঁদপুরে এ আসনের মাননীয় সাংসদ এবং জেলা বিএনপির অভিভাবক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের নেতৃত্বে বিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চাঁদপুরে শুধু উন্নয়নই হবে না, মাদকমুক্ত একটি জেলা হিসেবে গড়ে উঠে।

তিনি আরো বলেন, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সুস্থ বিনোদনের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। ফুটবল তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে। এ ধরনের মাদকবিরোধী আয়োজন যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা চাই, তরুণেরা মাঠে ফিরে আসুক, মাদককে না বলুক এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে এগিয়ে আসুক। তাই এমন একটি আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বাশার ভুঁইয়া, মো. সোবাহান, মুন্না, মোঃ মেহেদী, মোঃ শুভ ও মোঃ রায়হান, ৩নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রিয়াদ, সদস্যসচিব আহমেদ রানাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

Model Hospital

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় একতা স্পোর্টিং ক্লাব ও বিষ্ণুদী জুনিয়র এফসি। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র হলে টাইব্রেকারে ১-০ গোলে জয় পায় একতা স্পোর্টিং ক্লাব। ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন মো. ফারুক।

ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন। তাঁর অভিযোগ, জমির সীমানা নির্ধারণের পর প্রতিপক্ষ নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাটি উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের।
সাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে তিনি সাড়ে তিন শতাংশ জমি কেনেন। সম্প্রতি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, নুরু মিয়ার ছেলে সাহাদাত হোসেন, তাঁর ভগ্নিপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাস্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেনের ভাষ্য, জমি পরিমাপের সময় তাঁর কেনা জমির একটি অংশ নুরু মিয়ার দখলে রয়েছে বলে চিহ্নিত হয়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে জমিটি বুঝে নেন তিনি। তাঁর দাবি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের পর থেকেই নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলছেন।
সাহাদাত হোসেন আরও বলেন, তাঁর জমিতে কয়েকটি কদমগাছ ছিল। নুরু মিয়া সেগুলো প্রকাশ্যে কেটে ফেলেছেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাছের অবশিষ্ট গোড়ার ছবি তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আমি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। অথচ জমির সীমানা নির্ধারণের পর গাছ কাটার অভিযোগে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কথা প্রচার করা হচ্ছে। এতে আমি বিব্রত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। আমি চাই, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু জানান, সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমিটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে গাছ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নুরু মিয়ার দাবি, তাঁকে না জানিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়েছে এবং তাঁর জমির পাশের গাছ তুলে কেটে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জমি পরিমাপের সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, আপনার ছেলে সাহাদাত হোসেন ও ভগ্নিপতি সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাষ্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন এবং আপনার দখলে থাকা ভূমি কর্মকর্তার জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এমন প্রশ্ন করা হলে নুরু মিয়া এড়িয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নুরু মিয়া তাঁকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তিনি তা দেননি।
সাহাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তাঁকে দোষারোপ করা সমীচীন নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।