বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

জনবান্ধব নানা উদ্যোগে প্রশংসিত, সেরা জেলা প্রশাসক চাঁদপুরের আহমেদ জিয়াউর রহমান

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শাহরাস্তির ইউএনও মনিরা খাতুন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শাহরাস্তির ইউএনও মনিরা খাতুন
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়নে তিনি এ স্বীকৃতি পান। শাহরাস্তিতে যোগদানের পর থেকে প্রশাসনিক তৎপরতা, মাঠপর্যায়ে তদারকি ও জনবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ, বাজার মনিটরিং, কৃষিজমির টপসয়েল কাটা ও অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ, ডাকাতিয়া নদীতে মৎস্য নিধন প্রতিরোধ, কিশোর গ্যাং ও বাল্যবিয়ে দমনে উদ্যোগ, বৃক্ষরোপণ এবং নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখছেন ইউএনও মনিরা খাতুন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা খোর্দ্দ শৈলখালী খাল খনন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন, পৌরসভার বর্জ্য অপসারণ, পথকুকুরকে টিকা প্রদান এবং সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সাফল্যের বিষয়ে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, “প্রতি মাসে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করেছি। গ্রাম পুলিশ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী ও টিকাদান কেন্দ্রের সহায়তায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি, যাতে কোনো শিশুর জন্মনিবন্ধন বাদ না পড়ে। পিছিয়ে থাকা নিবন্ধন সম্পন্ন করতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অর্জনে স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ও জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও নাগরিকদের দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করব।”
এদিকে একই কার্যক্রমে জাতীয় পর্যায়ে সেরা জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, নিবন্ধন কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি কাটিয়ে উঠতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও গ্রাম পুলিশদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাদ পড়া নিবন্ধন সম্পন্ন, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়মিত অগ্রগতি তদারকির মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে।
শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দ এ অর্জনে ইউএনও মনিরা খাতুন ও জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ সাফল্য নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে আরও উৎসাহ জোগাবে।
উল্লেখ্য, একই মূল্যায়নে চট্টগ্রাম বিভাগের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা ও হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্নাইপার সংক্রান্ত একটি মন্তব্য ঘিরে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মন্তব্যটিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতারা। তারা মন্তব্যটির বিষয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে ওই মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকাল তিনটার দিকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে রাজশাহীর নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় রাস্তার দুধারে অসংখ্য মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে জবাব দেন।

তবে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকালে ব্যবহৃত বাস নিয়ে একটি পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে লেখা হয় ‘সবই বুঝলাম! রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কী জানেন রাজশাহীবাসী?’ এই পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রুয়েটের বাসের ছবি সংযুক্ত করা হয়।

পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয় ‘ইস! একটা বড় সুযোগ। ছিল শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’। এই মন্তব্যটির ভাষা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা।

Model Hospital

তাদের মতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে মন্তব্যটির উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে কোনো বাস্তব হুমকির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যিনি এমন কথা বলেছেন তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। তার ভাষ্য, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলী আশরাফ মাসুম বলেন, ফেসবুকে এ ধরনের মন্তব্য দেখে আমরাও উদ্বিগ্ন হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্তব্যটি তার প্রতি হুমকির ইঙ্গিত বহন করে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একজন একটি মন্তব্য করেছেন যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে।