বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘আপনারা সংখ্যালঘু নন, এ দেশেরই নাগরিক’ হাজীগঞ্জে পূজামণ্ডপে এমপি মমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২০ পিএম
‘আপনারা সংখ্যালঘু নন, এ দেশেরই নাগরিক’ হাজীগঞ্জে পূজামণ্ডপে এমপি মমিনুল হক

হাজীগঞ্জে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে শান্তিতে বসবাস করতে হবে।

‘আপনাদের কাছ থেকে “মাইনোরিটি” (সংখ্যালঘু) শব্দটি যেভাবে আসে, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আপনাদের চৌদ্দ পুরুষ এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। বংশপরম্পরায় আপনারা এই মাটিতেই জন্মেছেন এবং বাংলাদেশের নাগরিক।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা মাখন মণ্ডল দাস বাড়ি সার্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।

তিনি বলেন, ‘এখানে আপনারা যেভাবে বসবাস করছেন, ঠিক একইভাবে ভারতেও আমাদের মুসলমানরা বসবাস করেন। সম্প্রীতির এই ভূখণ্ডে আমরা যেন কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা বা সংঘাত সৃষ্টি না করি।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে এমপি মমিনুল হক আরও বলেন, ‘আপনারা কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আমাকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। ফলে আমার ওপর আপনাদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপনাদের সমাজের যেকোনো সমস্যা আপনাদের প্রতিনিধিরাই সমাধান করবেন। সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্য কারও হস্তক্ষেপ বা উপস্থিতি আমরা চাই না। ধর্মীয় বা সামাজিক কোনো বিষয়ে কেউ সমস্যা সৃষ্টি করলে আমাকে সরাসরি জানাবেন।’

Model Hospital

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর আমাদের অনেক নেতাকর্মী রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল ও আমাদের রাজনৈতিক ধারার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে; আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমরা যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসি, তখন সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে মণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সহকারী প্রানেশ দাশ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নবিষয়ক প্রকল্পের পরিচালক ড. অসীম কুমার দাস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এম এ রহিম পাটোয়ারী, বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মেয়র প্রার্থী হাসান মিয়াজী, বাকিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল, উপজেলা যুবদল নেতা শুকুর আলম বেপারী, মমিন বেপারী, মোবাশ্বের মোল্লা ও শেখ খোরশেদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোশারফ হোসেন মোল্লা, আক্তার বেপারী ও খোকন গাজী, ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মোতালেব গাজী ও রিয়াজুল ইসলাম রিয়াদ, শ্রমিক দল নেতা আলাউদ্দিন তরুণসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ভক্তবৃন্দ।

ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বানের মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।

রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্নাইপার সংক্রান্ত একটি মন্তব্য ঘিরে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মন্তব্যটিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতারা। তারা মন্তব্যটির বিষয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে ওই মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকাল তিনটার দিকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে রাজশাহীর নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় রাস্তার দুধারে অসংখ্য মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে জবাব দেন।

তবে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকালে ব্যবহৃত বাস নিয়ে একটি পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে লেখা হয় ‘সবই বুঝলাম! রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কী জানেন রাজশাহীবাসী?’ এই পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রুয়েটের বাসের ছবি সংযুক্ত করা হয়।

পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয় ‘ইস! একটা বড় সুযোগ। ছিল শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’। এই মন্তব্যটির ভাষা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা।

Model Hospital

তাদের মতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে মন্তব্যটির উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে কোনো বাস্তব হুমকির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যিনি এমন কথা বলেছেন তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। তার ভাষ্য, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলী আশরাফ মাসুম বলেন, ফেসবুকে এ ধরনের মন্তব্য দেখে আমরাও উদ্বিগ্ন হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্তব্যটি তার প্রতি হুমকির ইঙ্গিত বহন করে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একজন একটি মন্তব্য করেছেন যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে।