বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় সাবেক এমপি ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতির মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় সাবেক এমপি ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতির মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি
দৈনিক ইত্তেফাকের ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে। ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রাজস্ব ও ব্যাংকিং বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদ ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধটির সৌহার্দ্য ও মর্যাদাপূর্ণ নিষ্পত্তি করা হয়।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৮টা নাগাদ পৌর ছাত্রদলের নেতা কামরুল ইসলাম পাটোয়ারীর হামলায় সাংবাদিক মহিউদ্দিন আহত হন। পরে কয়েকজন সাংবাদিক তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানেও তিনি বাধার মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রতিরোধের মুখে বাধা দনিকারীরা পিছু হটেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাবে জরুরী সভার আয়োজন করেন। সভায় প্রেসক্লাবের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এতে সাংবাদিকের ওপর হামলার নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজস্ব ও ব্যাংকিং বিষয়ক সম্পাদক উদ্ভূত পরিস্থিতির খবর পান। তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে যেন বিরোধ না হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সম্মানজনক মিমাংসার প্রতিশ্রুতি দেন।
জরুরী সভা চলাকালীন রাত ৮টা নাগাদ তিনি ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে পৌঁছালে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উদ্ভুত ঘটনাটি অনাকাংখিত বলে মন্তব্য ও দুঃখ প্রকাশ করেন। অভিযুক্তরা অপরাধ করেছে মত প্রকাশ করলে তারাও মেনে নেন। এতে, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমঝোতার ভিত্তিতে অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়।
প্রসঙ্গত সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, বিরোধী দলে থাকাকালীণ ঢাকার ও সারা দেশের সাংবাদিকগণ সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন এবং অনেক বাংবাদিক ভাই নির্যাতন ও মামলা হামলার শিকার শিকার হয়েছেন। তিনি, সাংবাদিকগণ আমাদের বন্ধু ও দুঃসময়ের সাথী মন্তব্য করে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাদ্যমের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্নাইপার সংক্রান্ত একটি মন্তব্য ঘিরে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মন্তব্যটিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতারা। তারা মন্তব্যটির বিষয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে ওই মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকাল তিনটার দিকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে রাজশাহীর নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় রাস্তার দুধারে অসংখ্য মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে জবাব দেন।

তবে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকালে ব্যবহৃত বাস নিয়ে একটি পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে লেখা হয় ‘সবই বুঝলাম! রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কী জানেন রাজশাহীবাসী?’ এই পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রুয়েটের বাসের ছবি সংযুক্ত করা হয়।

পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয় ‘ইস! একটা বড় সুযোগ। ছিল শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’। এই মন্তব্যটির ভাষা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা।

Model Hospital

তাদের মতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে মন্তব্যটির উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে কোনো বাস্তব হুমকির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যিনি এমন কথা বলেছেন তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। তার ভাষ্য, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলী আশরাফ মাসুম বলেন, ফেসবুকে এ ধরনের মন্তব্য দেখে আমরাও উদ্বিগ্ন হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্তব্যটি তার প্রতি হুমকির ইঙ্গিত বহন করে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একজন একটি মন্তব্য করেছেন যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে।