বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০১ পিএম
বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও এককালীন বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে দুর্নীতির কারণেই আমরা জাতি হিসেবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি। দুর্নীতি দূর করে সবাই যদি দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করত, তাহলে বাংলাদেশ আজ সিঙ্গাপুরের চেয়েও উন্নত হতে পারত। কারণ, আমাদের দেশে সব ধরনের সম্ভাবনা ও সম্পদ রয়েছে।

তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করে চাঁদপুরের মুখ উজ্জ্বল করেছ। ভবিষ্যতেও নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও সততার মাধ্যমে দেশের সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে ‘না’ বলতে হবে এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন। সঞ্চালনা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান।

Model Hospital

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মমিনুল হক মজুমদার ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতার জন্য এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, বাবুরহাট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক শেখ নজরুল ইসলাম, শিক্ষানুরাগী আরশাদ আলী মজুমদার, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহসিন মজুমদার লিটন, অভিভাবক সদস্য মো. মাসুদুর রহমান পালোয়ান, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ডা. শফিকুর রহমান, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও শিক্ষানুরাগী মো. মোবারক পালোয়ান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর শেখসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে শুরু হওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ বৃত্তি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে ১০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও এককালীন ১৫ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া একজন শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি, উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ এবং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।