শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আক্কাছ আলী স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে চর্যাপদ একাডেমির বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০২২, ১:৩০ পিএম
আক্কাছ আলী স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে চর্যাপদ একাডেমির বই
স্টাফ রিপোর্টার :ফেসবুক ও পাঠ্যসূচির গণ্ডিতে আর নই, চর্যাপদের সঙ্গে থেকে পড়ব সকল বই- এই শ্লোগানে পালিত হলো চর্যাপদ একাডেমির বই উপহার কর্মসূচি।
সোমবার ২৮ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদপুরের আক্কাছ আলী রেলওয়ে একাডেমিতে ফিতা কেটে বই উপহার কর্মসূচি উদ্বোধন করেন চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির উপমহাপরিচালক দুখাই মুহাম্মাদ।
একাডেমির সভাপতি নুরুন্নাহার মুন্নির সভাপতিত্বে ও নির্বাহী পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম মিয়াজী।
বক্তব্য রাখেন বই উপহার কর্মসূচির আহ্বায়ক রফিকুজ্জামান রণি, সদস্য সচিব দিলীপ ঘোষ, প্রধান সমন্বয়কারী ফেরারী প্রিন্স, সহ-সভাপতি আয়শা আক্তার রুপা ও স্কুল শিক্ষক ইমরান শাকির।
এ সময় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছড়া, ভ্রমণ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ উপহার হিসেবে তুলে দেয়া হয়। স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রদান করা হয় পাঁচটি পুরস্কার। কুইজে বিজয়ী হয়েছেন ইউসুফ অাদনান, সামিয়া, ইমন, খাদিজা আক্তার ও মিলি আক্তার।
চর্যাপদ একাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি বলেন, গ্রামাঞ্চলের তরুণ-তরুণীরা পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সৃজনশীল ও মননশীল বই-ম্যাগাজিন পড়তে সবসময়ই আগ্রহী। হাতের নাগালে সে সুযোগ খুব একটা আসে না। আমরা কাঁধে বই নিয়ে তাদের দরোজায় গিয়ে দাঁড়াতে চাই। প্রতি মাসে অন্তত ১০০ থেকে ২০০ কপি বই উপহার দিয়ে বইপাঠের প্রতি উৎসাহ যোগাতে চাই। উপহার হিসেবে বই প্রদানের রেওয়াজ তৈরিতে মানুষের আগ্রহ বাড়াতে চাই। সুধিজন ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকেও উপহার হিসেবে বই দিই আমরা। শহরে এবং গ্রামে সবখানেই চলে উপহার কর্মসূচি। মূলত বই পাঠের মাধ্যমে মাদক, জঙ্গীবাদ ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটি নিবিড় আন্দোলন এটি। ফেসবুকের সীমিত ব্যবহারের প্রতি নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে তোলার একমাত্র উপায় হলো তাদের  হাতে হাতে ভালো মানের বই তুলে দেয়া।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার প্রসার লাভের প্রয়াসে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাদীপ্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নানামুখী উদ্যোগের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরাও কাজ করতে চাই। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। জুতসই পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সারাদেশে বইয়ের আলো ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করবো আমরা। গেলো পৌনে তিন বছরে ছয় হাজারের কাছাকাছি বই উপহার দিয়েছি আমরা।
এবারের কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছেন কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার, কবি বীরেন মুখার্জী, কবি রহমান হাবিব, কবি মুক্তা বুকল, কবি আফরোজা অদিতি, কবি জরিনা আখতার, কবি সজীব মোহাম্মদ আরিফ, কবি সুরাইয়া চৌধুরী, কবি মামুন রশীদ, কবি মনজুরে কাদের ও রতন খান।
বই উপহার কর্মসূচিটি উৎসর্গ করা হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মবলিদান করা সকল বীর শহীদের স্মৃতির প্রতি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’