শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ৯ ইউপির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১, ১:৫৭ পিএম
চাঁদপুরে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ৯ ইউপির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরে কয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে একটানা ভোটগ্রহণ চলে। প্রতিটি কেন্দ্রেই সকাল থেকে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা কমতে থাকে। তবে ভোটারদের উপস্থিতি পুরুষদের চেয়ে নারীদেরই বেশি দেখা যায়।

অপরদিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুলিশ ১০ থেকে ১২ জনকে আটক করেছে বলে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ জানিয়েছেন।

বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তোড়ঝোড় না থাকলেও মেম্বার প্রার্থীরা ছিলেন সরব। তারা তাদের সমর্থিত ভোটারদের কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। এতে করে সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে উৎসবমূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এদিকে ভোটগ্রহণের পূর্বেই সকাল সাড়ে ৭টায় আশিকাটি ইউনয়নের ৮নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পাইকাস্তার মেম্বার প্রার্থী তাফু কাজীর (তালা মার্কা) সমর্থকদের সাথে মো. রুবেল প্রধানীয়ার (ফুটবল মার্কা) সমর্থদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. সাখাওয়াত হোসেন কাজী নামে একজন গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ জাহাঙ্গীর গাজী ও বাপ্পী মজুমদার নামে দুজনকে আটক করে।

Model Hospital

এছাড়াও বাগাদী, তরপুরচন্ডী, বালিয়া, শাহমাহমুদপুর, চান্দ্রা ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে নির্বাচনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ।

পুলিশ সুপার বলেন, দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও কোষ্টগার্ড সদস্যরা প্রস্তুত ছিলেন। চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তোফায়েল হোসেন বলেন, সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমাদের সকল প্রস্তুতি ছিল। ইনশাল্লাহ আমরা সফলকাম হয়েছি।

উল্লেখ, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে গত সোমবার হানারচর ইউনিয়নের নির্বাচন ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট। ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আঃ ছাত্তার রাঢ়ীর রিটের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন হাইকোর্ট।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’