শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

তরপুরচন্ডী ইউপি নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডে ইয়াসিন বেপারী বিজয়ী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১, ৫:০৬ পিএম
তরপুরচন্ডী ইউপি নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডে ইয়াসিন বেপারী বিজয়ী

গাজী মোঃ ইমাম হাসান : ১১ নভেম্বর চাঁদপুর সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮ নং ওয়ার্ডে মোরগ মার্কা প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছে মোঃ ইয়াসিন বেপারী।

এদিন সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ৮ নং ওয়ার্ডের আল মঞ্জিল একাডেমীতে শান্তুিপূর্ন ভাবে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।এই ওয়ার্ডটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ১১৯১ জনের মধ্যে সংগ্রহকৃত ভোটের সংখ্যা ৮৩৮।এর মধ্যে মোরগ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ ইয়াসিন বেপারী পায় ৪৪১ ভোট,নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মোঃ দুদু খান ফুটবল প্রতীকে পান ২১৬ ভোট এবং তালা মার্কা প্রতীকে রুহুল আমিন সিকদার পায় ১৬৫ ভোট।সংগ্রহকৃত মোট ভোট থেকে বাতিল ভোটের সংখ্যা ১৬।নির্বাচনে মোরগ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ ইয়াসিন বেপারী ২২৫ ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রার্থীকে পরাজিত করে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মোঃ ইয়াসিন বেপারী ৮ নং ওয়ার্ড বাসীর প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন।

নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। ২৯অক্টোবর বিকালে তিনি ৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়ী,দোকান-পাট, এলাকার সুধী সমাজ ও সকল পর্যায়ের ভোটারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত,কুশল বিনিময় এবং গণসংযোগ করেন।এসময় তিনি আগামী ১১ তারিখ তালা মার্কায় সকলের কাছে ভোট চান।

এ সময় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় তারা এবারের নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের জন্য একজন দক্ষ ও ভালো মানুষ নির্বাচিত করবেন।

Model Hospital

তারা জানায় এই ওয়ার্ডের জন্য সদস্য হিসাবে আমরা বিগত দিনের পরিক্ষিত নেতা মোঃ মোর্শেদ কবির গাজীকে দেখতে চাই।কারন হিসাবে তারা বলেন করোনা কালীন সময় থেকে শুরু করে যে কোন বিপদে-আপদে আমরা তার কাছ থেকে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি। সামাজিক কাজ ও ওয়ার্ড বাসীর কল্যানে তার বিকল্প নাই। ওয়ার্ড বাসীর এই প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মোঃ মোর্শেদ কবির বলেন আমার ওয়ার্ড বাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং কল্যানের সুযোগ যদি মহান আল্লাহ আমাকে দেন আমি তা যথাযত ভাবে পালনে আন্তরিক থাকবো। আমি বিগত দিনেও তাদের জন্য কাজ করেছি,আগামীতে করবো। আল্লাহ যেন আমাকে তাদের সেবক হিসাব কবুল করেন, তাই সকলের কাছে দোয়া চাই।

তার নির্বাচনী গণসংযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’