শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদর ইউপি নির্বাচনে ৯টি ইউনিয়নে কে কত ভোট পেল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১, ৫:২৭ পিএম
চাঁদপুর সদর ইউপি নির্বাচনে ৯টি ইউনিয়নে কে কত ভোট পেল
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নিরুঙ্কুশ জয় হ‌য়ে‌ছে।

৮নং বাগা‌দি ইউ‌নিয়‌নে চেয়ারম্যান প‌দে বেলা‌য়েত হোসেন গাজী বিল্লাল নৌকা প্রতী‌কে পে‌য়ে‌ছেন ৮ হাজার ৯৪৪ ভোট পে‌য়ে চতুর্থবা‌রের ম‌তো চেয়ারম‌্যান নির্বা‌চিত হ‌য়ে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রা‌র্থী বরকত উল্লা খান  চশমা প্রতী‌কে ৩ হাজার ২৭৯ ভোট ও নেয়ামত উল্লা হাতপাখা ১ হাজার ১৭৯ ভোট, মা‌নিক মিয়া আনারস প্রতী‌কে ৫৩২ ও মুনসুর বেপারী হোলাপ ফুল প্রতী‌কে ১৬১ ভোট পে‌য়ে‌ছেন।

চেয়ারম‌্যান প‌দে মোঃ নুরুল ইসলাম নৌকা প্রতী‌কে ৭ হাজার ৫৯ ভোট ভোট পে‌য়ে  চেয়ারম‌্যান নির্বা‌চিত হ‌য়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রা‌র্থী আবু মো সা‌ল‌হে আনারস প্রতী‌কে ৪৭০ ভোট, আজহারুল ইসলাম হাতপাখা প্রতী‌কে ৩৫৭ ভোট

চেয়ারম‌্যান প‌দে মোঃ বিল্লাল হো‌সেন নৌকা প্রতী‌কে ৬ হাজার ৯৭৮ ভোট পে‌য়ে দ্বিতীয়বা‌রের ম‌তো চেয়ারম‌্যান নির্বা‌চিত হ‌য়ে‌ছেন।  তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রা‌র্থী মাসুদ গাজী হাত পাখা প্রতী‌কে ৩ হাজার ৬২৪ ভোট দেলোয়ার হোসেন খান চশমা প্রতী‌কে ৯২৩ ভোট পে‌য়ে‌ছেন।

Model Hospital

নাছির উদ্দিন খান (নৌকা) পেয়েছে ১১ হাজার ৬ শত ৫২ ভোট।অজিউল্লা সরকার (হাতপাখা) পেয়েছে ১ হাজার ৫শত ১০ ভোট ও খোরশেদ আলম (আনারস) পেয়েছে ৭ শত ৭৯ ভোট। নাছির উদ্দিন খান (নৌকা) বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছে।

মাসুদুর রহমান নান্টু (নৌকা) পেয়েছে ৫ হাজার ৬শত ৬৩ ভোট,স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বপন মাহমুদ টেলিফোন পেয়েছে ৪ হাজার ৪শত ১৫ ভোট,রফিকুল ইসলাম (আনারস) ২ হাজার ১শত ৩১ ভোট ও মোঃ শাহআলম গাজী (হাতপাখা) ৯শত ৪২ ভোট। বেসরকারিভাবে মাসুদুর রহমান নান্টু (নৌকা) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের রফিকুল্লাহ পাটওয়ারী (নৌকা) পেয়েছে ৭৭১৪ ভোট,স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান ঢালী (টেলিফোন) ২৫২০, মাসুদ রায়হান (চশমা) ২২৫৫, মাওলানা নুরুদ্দিন (হাতপাখা) ১৯০০, জাহাঙ্গীর (আনারস) ২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

১২নং চান্দ্রা ইউ‌নিয়‌নে চেয়ারম‌্যান প‌দে খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারী নৌকা প্রতী‌কে ৯ হাজার ৮৩৯ ভোট পে‌য়ে নির্বাতিত হ‌য়ে‌ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতী‌কে আবাব্দুর রহমার বেপারী ২ হাজার ৯৩৫ ভোট, মকবুল ঘোরা প্রতী‌কে ১৬৩ ভোট ও মু‌জিবুর রহমান মিয়াজী হাতপাখা প্রতী‌কে ২ হাজার ১৪১ ভোট পে‌য়ে‌ছেন।

এদিকে সদরের তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল ও রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’