শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২, ৩:৪৫ পিএম
কচুয়ায় ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : ৬নং কচুয়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নতুন জন্ম সনদে অতিরিক্ত ফি আদায়, জন্ম নিবন্ধনের নাম, বয়স ও অনান্য সংশোধনী সনদ প্রদানে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সচিবের এমন কর্মকান্ডে চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, প্রতিটি শিশুর ১ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সরকারি নিয়মানুযায়ী জন্ম নিবন্ধনের কোনো ফি নেই, তবে ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা ও ৫ বছরের উপরের সব বয়সীদের ৫০ টাকা ফি নেওয়ার নিয়ম করে দিয়েছে সরকার। তবে সরকারের এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার কচুয়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মফিজুর রহমান সরকারি নির্ধারিত ফি আদায়ের স্থলে নিজেই নতুন নিয়ম করে বসেছেন। সে সরকারি নিয়মে প্রতি জন্ম সনদে ২শত থেকে ৩শত টাকা ও জন্ম নিবন্ধনে নাম ভুল হলে সংশোধন বাবদ ১হাজার থেকে ৩হাজার টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

সরজমিনে দেখা যায়, উজানী গ্রামের ফাতেমা বেগম তার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে আয়েশা আক্তারের বিয়ে দেওয়ার সময় ইউপি সচিব মফিজুর রহমানকে ২হাজার টাকা দিয়ে জন্ম নিবন্ধনে বয়স বাড়িয়ে নেয়। কিন্তু বর্তমানে মেয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য একাডেমিক সার্টিফিকেট ও অনান্য কাগজ পত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তারা জন্ম সনদের সাথে সার্টিফিকেটের অমিল থাকায় জন্ম নিবন্ধনের বয়স ঠিক করতে বলেন নির্বাচন কর্মকর্তা। কিন্তু বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধনের বয়স সংশোধন করতে গেলে সচিব জানায় এ জন্মনিবন্ধন আর সংশোধন করা যাবে না। বর্তমান চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করবে না।

একই ইউনিয়নের সিংআড্ডা গ্রামের সিরাজ মিয়ার মেয়ে আয়েশা আক্তারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তার পরিবার তাকে অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দেওয়ার জন্য ইউপি সচিব মফিজুর রহমানকে ২হাজার টাকা দিয়ে জন্ম নিবন্ধনের বয়স বাড়িয়ে নেয়। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়েটি বন্ধ করে দেয়।

Model Hospital

নাইম হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী জানায়, আমি জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য সচিবের সাথে ৩হাজার টাকা চুক্তিবদ্ধ হয়ে ১৫শত টাকা দেই।

জন্ম-নিবন্ধন নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলাপকালে তারা এ প্রতিবেদককে জানান, জন্মনিবন্ধন আনতে গেলে সচিব বিভিন্ন কাগজপত্রের ভুল ধরেন এবং সময়মতো কাগজপত্র না দিয়ে হয়রানি করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তিনি কাজ করেন না। তবে ইউনিয়ন পরিষদে এ অভিযোগ নতুন নয়। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে ইউপি সচিব মফিজুর রহমান জন্ম নিবন্ধন সনদে অতিরিক্ত ফি আদায় করেন।

উত্তর কচুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন বলেন, পুরাতন জন্ম নিবন্ধনে ভুল আছে এটা সংশোধন করে ডিজিটাল করতে হলে তিন হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে বিভিন্ন কাগজপত্রে সমস্যা দেখিয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের হয়রানি করেন।

ইউপি সচিব মফিজুর রহমান অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,সবাই নিয়েছে আমিও নিয়েছি। সামনে আর নিবো না।

কচুয়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. আখতার হোসাইন বলেন, সচিব মফিজুর রহমান জন্ম নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত ফি আদায় এবং মেয়েদের বয়স বাড়িয়ে জন্ম সনদ সংশোধন করে বাল্য বিবাহে সহযোগীতা করে আসছেন বলে আমিও অভিযোগ পেয়েছি। তবে আমি দায়িত্বগ্রহণের পর সচিবকে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে এসকল কর্মকান্ড বন্ধ করেছি। তারপরও কিছু জন্মনিবন্ধনে সে অতিরিক্ত ফি আদায় করার সংবাদ পেয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের সেবাকে মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সচিব অসাধু কাজ করে যাচ্ছেন। তার অনৈতিক সকল কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জেলা প্রশসাক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।