শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দৈনিক চাঁদপুর খবরের প্রতিনিধি সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২, ৩:৩০ পিএম
দৈনিক চাঁদপুর খবরের প্রতিনিধি সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

স্টাফ  রির্পোটার : চাঁদপুর জেলা শহর থেকে নিয়মিত প্রকাশিত দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার পরিবারের উদ্যোগে ঘরোয়া পরিবেশে প্রতিনিধি সভা , ইফতার মাহফিল  ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৫ এপ্রিল (সোমবার) বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবনের ২য় তলা এলিট চাইনিজ রেস্টুরেন্টে পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মাওলানা আহমদ উল্লাহ’র পরিচালনায় ইফতার মাহফিলের পূর্বে প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী তার বক্তব্যে বলেন, মানুষের সেবার মাধ্যমে পত্রিকা কে প্রচার ও প্রসার করে এগিয়ে নিতে হবে। সংবাদের আবশ্যই বস্তুনিষ্ঠতা থাকতে হবে ।পাঠকের কাছে  সঠিত তথ্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব । পাঠক হলো আমাদের বিচারক । তারাই বিবেচনা করবে । এ পত্রিকার মাধ্যমে সমাজের মানুষ কোন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, ইনশাআল্লাহ উপকৃত হবে। পত্রিকা নিয়মিত বের করা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। আমরা এ চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে, নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশনা করে আসছি। ভবিষ্যতে প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে। পত্রিকাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনাদের সার্বিক সহায়তা প্রয়োজন। কারণ সকলের সমন্বয়ে যেকোনো কাজ সহজে করা যায়। পত্রিকার সকল নিউজ নিয়মিত  অনলাইনে যাচ্ছে ।

তিনি আরো বলেন,আপনারা সবসময় গুরুত্বপূর্ন রির্পোটগুলো দিবেন। এখন প্রযুক্তি অনেক সহজ। সবাই সময়মত নিউজগুলো পাঠাবেন। নিউজের সাথে ক্যাপসান লিখে দিবেন। বিজ্ঞাপনের ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন। সামনে ঈদ, ঈদ উপলক্ষে আপনারা বিজ্ঞাপন দিবেন। আপনারা যে পত্রিকায় কাজ করেন, সে পত্রিকার প্রতি আন্তরিক হবেন। পত্রিকা হচ্ছে সমাজের দর্পণ।

Model Hospital

অনুষ্ঠানে দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অংশ নেন পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক এম এম কামাল, সহ-সম্পাদক এম আই দিদার, বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান, চীপ রির্পোটার সাঈদ হোসেন অপু চৌধুরী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার গাজী মো:ইমাম হাসান ,সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার কাউছুল উল রাব্বি, সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার (হাজীগঞ্জ) সাইফুল ইসলাম (সিফাত), সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার (ফরিদগঞ্জ) এস এম ইকবাল, সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার মো: মাসুদ হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার মো: রানা সরকার ,হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি মো: হাবিবুর রহমান, হাইমচর উপজেলা প্রতিনিধি বি এম ইসমাঈল,  ম্যানেজার মানিক চন্দ্র রায়সহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার পরিবারের সদস্য  শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ, চাঁদপুর জনতা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার আব্দুল কাদের হাজরা, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত মাধ্যমে অনুষ্ঠানে শুরু করা হয়। শেষে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা  করেন, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আহম্মদ উল্ল্যাহ।

সবশেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিনিধি সভা ও ইফতার মাহফিল সমাপ্ত ঘোষনা করেন দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’