শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে আবুল হোসেন ও কামরুলের বিরুদ্ধে অপ-প্রচারে প্রতিবাদ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২১, ১:৫৬ পিএম
শাহরাস্তিতে আবুল হোসেন ও কামরুলের বিরুদ্ধে অপ-প্রচারে প্রতিবাদ সভা

নোমান হোসেন আখন্দ : শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবুল হোসেন পাটোয়ারী ও আওয়ামীলীগ নেতা আসন্ন চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন প্রত্যার্শী আলহাজ্ব কামরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন মাধ্যমে অপ-প্রচারের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে গত ১১ নভেম্বর বিকেল ৪ টায় চিতোষী আর. এন্ড. এম উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা জানান, চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবুল হোসেন পাটোয়ারী কে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি কুচক্রীমহল তার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে অপ-প্রচার চালিয়ে তার ভাব-মূর্তি ক্ষুন্ন করছে। যিনি আওয়ামীলীগের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ রাজপথের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। দীর্ঘ ২০ বৎসর যাবৎ যিনি চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একজন অভিবাভক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আওয়ামীলীগকে সুসংঘটিত করে রেখেছেন।

পুরো উপজেলায় একজন প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুপরিচিত।

Model Hospital

অপরদিকে আওয়ামীলীগনেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দানবীর চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতিক প্রত্যার্শী আলহাজ¦ কামরুল ইসলাম মজুমদারকে জড়িয়ে নির্বাচনের আগমহুর্তে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি মহল তাদের দোষক্রুটি ডাকতে তার নামে সামাজিক মাধ্যাম ও বিভিন্ন মাধ্যমে অপ-প্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

কামরুল ইসলাম মজুমদার আওয়ামীলীগের একজন নিবেদিত প্রান কর্মী হিসেবে দীর্ঘ ৪০ টি বৎসর বিভিন্নভাবে দলকে সহযোগিতার মাধ্যমে চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করে রেখেছেন। এ হীন অপপ্রচার থেকে জনগনকে সজাগ করতে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

প্রতিবাদ সভা থেকে বক্তারা হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন, আগ্রামী ১ সপ্তাহের মধ্যে কুচক্রীমহল এ বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থনা ও অপপ্রচার প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা তাঁতীলীগের সাধারন সম্পাদক মাঈনুদ্দিন মানিকের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ডা: শাহাবুদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি মাও. বিল্লাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ফারুকুল আলম মাষ্টার, আওয়ামীলীগ নেতা নাজমুল আহসান মাষ্টার, কাজী মো: ফয়জুল হক, মো: আবুল কাশেম, মো: আমির হোসেন, সাহেব উদ্দিন, মাসুদুর রহমান, নূর হোসেন ভুইয়াঁ, নূরুননবী খোকা, কামাল হোসেন, কবিরুল ইসলাম বিএসসি, খোরশেদ আলম,যুবলীগ নেতা মনির হোসেন, ছাএলীগ নেতা মো: ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’