শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাইমচরে স্থাপনা নির্মাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মে, ২০২২, ১১:১৪ এম
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাইমচরে স্থাপনা নির্মাণ
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানাধীন আলগী বাজারস্ত মধ্য গলির বালুর মাঠ এলাকায় বিরোধপূর্ন জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা। হাইকোর্টের নিষেধ করার পরও স্থাপনা নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে । কোন ভাবেই দখল কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর আলগী বাজার দুই পক্ষের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৯/৫/২০২২ইং তারিখে উচ্চ আদালতে অভিযোগ করেন মহজমপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল মুন্সির ছেলে মোঃ বোরহান  উদ্দিন (৩৯)। এই অভিযোগে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। অভিযোক্তরা হলেন, একই উপজেলার উত্তর আলগী গ্রামের মৃত হোছন আলী শেখের ছেলে ১/ লোকমান শেখ(৬০),২/ মোঃ আমান শেখ (৫০), ৩/ কাদর আলী শেখ(৫৫),৪/ মোঃ অলি শেখ।
বিবাদীগণ খুবই দুষ্ঠু, উৎশৃঙ্খল, সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু ও জোর-জুলুম করে পরধন লোভী প্রকৃতির লোক এবং আইন কানুনের প্রতি কোনো তোয়াক্কা করে না । আলগী বাজারস্থ বালুর মাঠ সংলগ্ন বাদীর পৈত্রিক ৩.৭১০ একর সম্পত্তি বিবাদীগণ বিগত কয়েক বছর পূর্ব থেকে দাবি করিয়া আসতেছে। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ এই জমি নিয়ে চলছে বাদী-বিবাদীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ। তারই ধারাবাহিকতায় বিবাদীগণ  মহামান্য হাইকোর্টে  একটি মামলা রুজু করিয়াছেন। ঐ মামলায় মহামান্য হাই কোর্ট থেকে ১৯/০৫/২০২২ইং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উচ্চ আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিবাদীগণ জোর পূর্বক ভবন নির্মান করছেন।
বড় ধরনের যে কোন পরিস্থতি মোকাবিলায় এখনই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আদালতের আদেশ মেনে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে দাবী করেছেন জমির পৈত্রিক সূত্রে মালিকগন ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’