বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

৬ তরুণ-তরুণীকে বেঁধে গণপিটুনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০২২, ৩:২৮ পিএম
৬ তরুণ-তরুণীকে বেঁধে গণপিটুনি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরে ছয় তরুণ-তরুণীকে বেঁধে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে লোকজন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি হাতকড়া ও তিনটি ছুরিসহ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার মান্দারীর যাদৈয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পারিবারিক ঘটনা সমাধান করতে ফেনী থেকে এসে তারা নিজেদের ‘মানবাধিকারকর্মী’ পরিচয়ে পরিবারের লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করেছিলেন। পরে তাদের বেঁধে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন শ্যামলী আক্তার চাঁদনী, আঞ্জুমা আক্তার, মহিউদ্দিন, মো. নুরনবী, বোরহান উদ্দিন ও মেহেদি হাসান। তারা ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

Model Hospital

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, কয়েক অনুসারী নিয়ে সোমবার (১১ জুলাই) সকালে মাইক্রোবাসযোগে মান্দারীর যাদৈয়া গ্রামে আসেন শ্যামলী। তারা নিজেদের ‘মানবাধিকারকর্মী’ পরিচয় দেন। তারা আসলাম জমাদার বাড়ির ইমরান হোসেনের ঘরে ঢোকেন। এ সময় ইমরানের বোনের প্রবাসী স্বামী জসিমের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ সমাধানের প্রস্তাব দেন।

একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আবার আসবেন বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) দুপুরে দুই তরুণীসহ চার যুবক আবারও মাইক্রোবাসযোগে ওই বাড়িতে আসেন। ওই বাড়ির শাহাদাত হোসেন ও ইমরান হোসেনের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। তারা পরিবারের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখান এবং মারধর করেন।

খবর পেয়ে বাড়ি ও আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে ছয়জনকে বেঁধে পিটুনি দেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি হাতকড়া ও তিনটি ছুরিসহ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, শ্যামলী কিছুটা মানসিক রোগী। দুই পক্ষই পরস্পরের আত্মীয়-স্বজন। খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মামলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ভগ্নাবশেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি নিরীহ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সূত্রপাত কোথায় থেকে হয়েছে, তা কেউ বলতে না পারায় পুরো এলাকায় গভীর রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীকালিয়া গ্রামের জবর আলি বেপারী বাড়ির প্রবাসী মো. মাসুদ আলমের বাড়িতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর মাত্র কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পরিধেয় বস্ত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটার মতো রান্নার চুল্লি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কেট বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কোনো সংযোগ বা উপস্থিতি ছিল না। ফলে এত বড় অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।