শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব; বড় ভাইয়ের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার ছোট ভাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২, ৬:২১ পিএম
হাইমচরে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব; বড় ভাইয়ের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার ছোট ভাই
হাইমচর প্রতিনিধি : হাইমচরে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে, বড় ভাইয়ের মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার ছোট ভাই জহির আহমেদ সবুজ। পৈতৃক সম্পত্তি বন্টন না হওয়ায় ভাইদের মধ্যে প্রায় সময় কথা কাটাকাটি ও বড় ধরনের ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। সামাজিক ভাবে কয়েকবার সালিশি করেও বড় ভাইকে বুঝানো যায় না। তাই ছোট ভাইয়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্নভাবে অত্যাচার করেন আপন বড় ভাই আলী আহম্মদ বেপারী।
তারই সুত্র ধরে স্থানীয় সুশীল সমাজের উপস্থিতিতে একাধিকবার পারিবারিক দেন দরবার হয়। দরবার সালিসি না মেনে বড় ভাই আলী আহম্মদ বেপারী তারই আপন ছোট ভাই জহির আহমেদ সবুজকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করে। সুযোগের অপেক্ষায় থেকে গত ২১ জুন ২০২২ মঙ্গলবার রাত ১০ টায় ছোট ভাই জহির আহমেদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সে মারাত্মক ভাবে আহত হলে স্থানীয়রা প্রথমে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চাঁদপুর সদর হাসপাতালে রেফার করে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ২২ জুন মঙ্গলবার বড় ভাই আলী আহম্মদ বেপারী ও তার স্ত্রী সন্তান মিলে প্রায় ৬/৭ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ছোট ভাই জহির আহমেদের ঘরের সামনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। বড় ভাইকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তার হাতে থাকা দা দিয়ে ছোট ভাই জহির কে আঘাত করে। এতে জহির মাথা সরিয়ে নিলে দায়ের আঘাতে কপাল ফেটে যায়। এরপর থেকে আলী আহমেদ এর স্ত্রী সন্তান মিলে নিরীহ জহিরের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহতাবস্থায় প্রথমে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন তিনি।
এ ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নিয়ে জহিরকে জেল হাজতে পাঠাতে আলী আহমেদ বেপারীর ছেলে শাহেদ হোসেন মিঠু (২৬) মিথ্যা নাটক সাজায়। কম্পিউটারে এডিটের মাধ্যমে তার হাতে ও মাথায় জখমের চিহ্ন দেখিয়ে আদালতে মামলা করে। আদালতে তার দাখিলকৃত জখমের ছবির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আপন চাচাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করে অতর্কিত হামলায় আহত করে নাটক সাজায় ভাতিজা মিঠু। এখন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে আপন চাচা জহিরকে।
স্থানীয়রা জানান, আলী আহমেদ বেপারী একজন দুষ্ট প্রকৃতির লোক। তার স্ত্রী সন্তানও হিংস্র মনোভাবের। তাই তাদের সাথে কেউ মিশেনা, কথাও বলে না। আলী আহমেদ বেপারী পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বারংবার জহিরের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। জহির নিরীহ মানুষ হিসেবে বড় ভাইয়ের সকল অত্যাচার মুখ বুজে হজম করে।
তারা বলেন- গত জুন মাসের ২২ তারিখের ঘটনা গৃহ যুদ্ধকেও হার মানিয়েছে। আলী আহমেদ বেপারী স্ব-পরিবারে জহিরের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। তার নিরাপত্তায় প্রসাশনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে বড় ভাই আলী আহম্মদ বেপারী জানান, আমি সংসারে বড়। নিয়মানুযায়ী বাড়িতে কোনোকিছু করতে হলে আমাকে জানিয়ে করতে হবে। কিন্তু সে পুকুরে মাছ ধরতে নামে আমি জানিনা। আমাকে না বলে বাগানের সুপারি নিয়ে যায়, গাছের ফলফলাদি নিয়ে যায়, জোরপূর্বক বাড়ির অর্ধেক টা সে দখলে নিয়ে গেছে। তবুও আমি কিছুই বলিনি। গত কয়েকদিন আগে সে ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে আমাকে ছেলেকে রক্তাক্ত করেছে। মাথায় আঘাত করেছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি প্রশাসনের আশ্রয় নিয়েছি।
সাবেক ইউপি সদস্য বিল্লাল জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে একাধিকবার বৈঠক হলেও তা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। কয়েকদিন আগে বড় ভাই আলী আহম্মদ বেপারীর নেতৃত্বে তার ছোট ভাই জহিরের উপর অতর্কিত হামলা করে মারাত্মক ভাবে আহত করে। তিনি চিকিৎসা শেষে চাঁদপুর কোর্টে তার ভাই ও ভাতিজাদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঐ মামলায় ১ নম্বর আসামি তার বড় ভাই আলী আহম্মদ বেপারীকে কোর্ট জেল হাজতে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জহিরের ভাতিজা বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বাড়িতে বা এলাকায় সে ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital