শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অবৈধ জলাদার দখলমুক্ত করে মাছ চাষের উৎপাদন বাড়াতে হবে; মেজর রফিকুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২, ৬:৩২ পিএম
অবৈধ জলাদার দখলমুক্ত করে মাছ চাষের উৎপাদন বাড়াতে হবে; মেজর রফিকুল ইসলাম

মোঃ মাসুদ রানা : জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২২ উদযাপন উপলক্ষে শাহরাস্তিতে র‍্যালী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত  হয়।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টর কমান্ডার, চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।

তিনি তার বক্তব্য বলেন, অবৈধ জলাদার খাল বিল উদ্ধার করে খালের নাব্রতা বাড়িয়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করে বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হবে।

উক্ত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদের সভাপতিত্বে ও মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ ফারুক আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, শাহরাস্তি পৌরসভা মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আব্দুল মান্নান, উপজেলা আলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি  মোস্তফা কামাল মজুমদার, উপজেলা পৌর আলীগের সস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংসদের সফর সঙ্গী মশিউর রহমান শাহিন, উপজেলা আলীগের আলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এম আনোয়ার ,যুবলীগের আহ্বায়ক আহসান মনজুরুল ইসলাম জুয়েল, চেয়ারম্যান ওমর ফারুক দর্জি প্রমুখ সহ পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন । অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ তৌসিব উদ্দিন।

Model Hospital

পরিশেষে বায়োফ্লক ও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে সফলতার জন্য সাইফুল ইসলাম কাউসার, কার্প জাতীয় মাছের পোনা উৎপাদনে বিশেষ সফলতার জন্য মৎস্যচাষী সুভাষ চন্দ্র বর্মন কে, মনোসেক্স তেলাপিয়া ও কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে বিশেষ সফলতার জন্য মৎস্যচাষী মোঃ হুমায়ুন কবিরকে সম্মাননা ও সনদ প্রদান করেন।

অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পূর্বে মনোজ্ঞ র‍্যালী উপজেলা চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে। এরপর প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’