শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর থেকে সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার অনুমোদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২, ২:০৭ পিএম
চাঁদপুর থেকে সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুর থেকে ‘ত্রিনদী’ নামের নতুন একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ’র হাতে নতুন এ পত্রিকার ঘোষণাপত্র তুলে দেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, গতানুগাতিক সংবাদ নয়, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে পাঠক প্রিয় হতে হবে। একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। বিষয়টি লক্ষ রেখে পত্রিকা প্রকাশনা চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, তিনি একজন সংসদ সদস্যই নন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার তার এলাকা থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হবে তা সত্যই আনন্দের কথা। তবে পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশ পূর্বে তা ভালো করে যাছাই-বাছাই করেই প্রকাশিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

Model Hospital

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং ন্যায় নিষ্ঠা ও বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরলে মানুষ উপকৃত হবে। সাংবাদিক তারাই হবে যারা সৎ সাহসী ও সত্য কথা লিখবে। সংবাদকর্মীদের লিখনের মাধ্যমে চাঁদপুর তথা দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আপনাদের লিখনের মাধ্যমে সমাজের অঙ্গতি ও সত্য কথা তুলে ধরবেন। তাতে করে সমাজ কিংবা দেশের মানুষের চিত্র ফুটে উঠবে। তাছাড়া সংবাদকর্মীদের লিখনের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরলে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।

সহকারি কমিশনার জে আর এম জাহিদ হাছানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ঘোষণাপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা ও চাঁদপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, প্রেসক্লাবের বর্তমান যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আব্দুল আউয়াল রুবেল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যাপক আবদুর রহমান, চাঁদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. ইয়াছিন ইকরাম, দৈনিক প্রিয় চাঁদপুর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বোরহান উদ্দিন ডালিম, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম লিটন, আলোকিত বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি শওকত আলী, ফোকাসমোহনা’র সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ মাসুদ আলম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য শেখ তোফায়েল আহমেদ, দৈনিক চাঁদপুরকণ্ঠ’র হাজীগঞ্জ ব্যুরো প্রধান কামরুজ্জামান টুটুল, দৈনিক ইলশেপাড়’র বিশেষ প্রতিনিধি অধ্যাপক এস এম চিশতী, প্রিয় চাঁদপুর (অনলাইন) প্রকাশক ও সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিফাত, এনটিভি’র চাঁদপুর প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম, দৈনিক ইলশেপাড়’র হাজীগঞ্জ অফিস প্রধান মোহাম্মদ হাবিবউল্যাহ, সাংবাদিক শাহরিয়ার পলাশ, সাংবাদিক এম আলী মুজিব।

ঘোষণাপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে ত্রিনদী পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ সকলের প্রতিকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পত্রিকা প্রকাশের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’