বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২, ৭:৫৮ এম
শাহরাস্তিতে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ
রাফিউ হাসান হামজা : চাঁদপুরের শাহরাস্তির বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। রোদ ও ভ্যাপসা গরমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের কোনো কোনো গ্রাহক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করে দিচ্ছেন ফেসবুকে পোস্ট।
লোডশেডিংয়ের কারণে শাহরাস্তিতে চিকিৎসা, শিক্ষা, শিল্প–কলকারখানা ও কৃষিতে নেমে এসেছে বিপর্যয়।  লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তির মধ্যে আছে মানুষ। কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আউশ ও রোপা আমনের ক্ষেতে সেচ দিতে সংকটে পড়েছেন কৃষক। উপজেলার উপলতা এলাকার গৃহিণী জান্নাতুন ফেরদৌস বলেন, সারা দিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। এক সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই দুই/তিন ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। বাচ্চাটার ঠিকমতো পড়াশোনাও হচ্ছে না।
উপজেলার আয়নাতলী গ্রামের আবাসিক গ্রাহক আলমগীর হোসেন বলেন, সাত-আট দিন ধরে প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে পাঁচ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।এমন লোডশেডিং আগে কখনো দেখিনি। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভোগান্তির মধ্যে আছেন।
ঠাকুরবাজারের বাজারের বাণিজ্যিক গ্রাহক অমল চন্দ্র পাল বলেন, দিনে-রাতে বিদ্যুৎ থাকছেই না। সময় অনুযায়ী বিদ্যুৎ নেওয়ার কথা থাকলেও তাও মানা হচ্ছে না। কোন কারণ ছাড়াই যখন ইচ্ছে তখনি বিদ্যুত নিয়ে যাচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি শাহরাস্তির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস–স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১–এর শাহরাস্তি উপজেলার ডিজিএম মোবারক হোসেন সরকার বলেন, শাহরাস্তির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৮০২৪৭ হাজার। যার মধ্যে সংযোগ প্রাপ্ত আবাসিক গ্রাহক ৬৯০৫৫ জন, বাণিজ্যিক গ্রাহক ৮৭০৭ জন, সেচ গ্রাহক ৪৯৩ জন, শিল্প গ্রাহক ৬৫৮ জন, সিআই/সড়ক বাতি/অন্যান্য ১৩৩৪। এই পরিমাণ গ্রাহকের প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ১৯ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ১৩/১৪ মেগাওয়াট করে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি থাকায় উপজেলায় দিনে ও রাতে লোডশেডিং হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ নতুন গ্রাহক সংযুক্ত হচ্ছে। দিন দিন গ্রাহক সংখ্যায় বেড়ে যাওয়া বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। সেক্ষেত্রে সকলকেই বিদ্যুত সাশ্রয়ী হওয়ার আহবান জানান তিনি। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দূর্যোগে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যায় বিদ্যুত সরবারাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত অফিসে জানানোর অনুরোধ করেন। অবৈধ সংযোগের ব্যাপারে তার কাছে জানালে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাসও দেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।