শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে উপজেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শোরসাক যুক্ত সঃপ্রাঃবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:৫৪ পিএম
শাহরাস্তিতে উপজেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শোরসাক যুক্ত সঃপ্রাঃবি

স্বপন কর্মকার মিঠুন : শাহরাস্তি উপজেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে শোরসাক যুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম ঘোষণা হয়েছে। শাহরাস্তি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২২ বাছাই কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ূন রশিদ ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ লুৎফুর রহমান ভুঁইয়ার যৌথ স্বাক্ষরে গত ১১ সেপ্টেম্বর/২০২২ তারিখে ওই শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের নাম ঘোষণা দেওয়া হয়।

এছাড়া একই তারিখে উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা, শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক, শিক্ষিকা, শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রেষ্ঠ এস,এম,সি, শ্রেষ্ঠ ক্যাব শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নামের তালিকা ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার বৈরি আবহাওয়া আর ভারি বৃষ্টি উপেক্ষা করে হঠাৎ আমাদের প্রতিবেদক ওই বিদ্যালয়ে উপস্থিতি হন। বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা গেছে আশানুরূপ ।

চলমান বৈরি আবহাওয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ উপস্থিতি কি ভাবে সম্ভব হলো, এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকা ও সহকারি শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সদিচ্ছা আর আন্তরিকতাই যথেষ্ট। এছাড়া পিতা-মাতার কাছে সন্তান যেমন নিরাপদ তেমনিভাবে এই বিদ্যালয়ে পিতা-মাতার আঁচলের নীচে থেকে সন্তানরা (শিক্ষার্থীরা) নিরাপদে পাঠ গ্রহন করে আসছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক মন্ডলি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিশাল সেতুবন্ধনেই বিদ্যালয়ের পরিবেশসহ শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে সক্ষমতা অর্জন করায় আজকে প্রতিষ্ঠানটি শ্রেষ্ঠত্ব লাভকরে।

Model Hospital

বিদ্যালয়টির কার্যক্রম অনুসরণ অনুকরণ করে আসলে এক সময়ে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করা সম্ভব হতে পারে।
কথা হলো উপজেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠন শোরসাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন শ্রেষ্ঠত্ব হলো সর্বশ্রেষ্ঠর দিকে এগিয়ে যাওয়া। কথায় আছে দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষার শেষ নেই। আসলে শ্রেষ্ঠত্বের মাঝে নতুন অনুভূতি, নতুনত্ব কাজ আর স্বপ্নের বীজ লুকায়িত।

শিক্ষক, শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে আজ এই বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠত্বর দৌড় গোড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা নাজমা আক্তার মাননীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানিয়ে দোয়া কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’